Homeতত্ত্বআলোকিত ব্যাক্তিস্বার্থ ও জন স্টুয়ার্ট মিল

আলোকিত ব্যাক্তিস্বার্থ ও জন স্টুয়ার্ট মিল

স্বার্থের দ্বন্দ মানব-অভিজ্ঞতার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এমন কোন মানুষ পৃথিবীতে খুজে পাওয়া দুষ্কর হবে যিনি কখনো কোন দন্দ্ব- বিবাদে জড়ান নি। আর পৃথিবীর সকল দন্দ্বের পেছনে থাকে স্বার্থের অভিঘাত। এক রাষ্ট্রের সাথে অন্য রাষ্ট্রের দন্দ্ব বা যুদ্ধ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিরোধ বা সংঘাত কিংবা দুই ভাইয়ের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ —- সকল দন্দ্বের মূল কারন হল স্বার্থের অভিঘাত। এই স্বার্থের অভিঘাত থেকে মুক্ত হওয়ার পথ দেখিয়েছেন বিখ্যাত ইংরেজ দার্শনিক জন স্টুয়ার্ট মিল, তার “ আলোকিত ব্যাক্তিস্বার্থ” তত্বের মাধ্যমে।

“ আলোকিত ব্যাক্তিস্বার্থ” কী? সহজ কথায়, বৃহৎ কোন স্বার্থের জন্য ক্ষুদ্র কোন স্বার্থ ত্যাগ করাকেই স্টুয়ার্ট মিল বলেছেন “আলোকিত ব্যাক্তিস্বার্থ”। স্টুয়ার্ট মিলের মতে, ব্যাক্তিগত জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বার্থ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। উদাহরণস্বরূপ, কোন ব্যাক্তি উচ্চতর কোন আনন্দ লাভ বা স্বার্থ সিদ্ধির জন্য সাময়িক কোন আনন্দ বা স্বার্থকে ত্যাগ করতে প্রস্তুত থাকবেন, যদি সেই ব্যাক্তির মধ্যে  যুক্তিবোধ এবং বিবেক থেকে থাকে। যুক্তিবোধ এবং বিবেকসম্পন্ন ব্যাক্তি অবশ্যই আলোকিত।

এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, স্টুয়ার্ট মিল আলোকিত ব্যাক্তিস্বার্থের তত্বের দ্বারা ব্যাক্তিস্বাতন্ত্রবাদকে অপসারণ করছেন না, বরং তার যুক্তি এই যে, ব্যাক্তি তার নিজের লাভের জন্যই “ আলোকিত স্বার্থ” বেছে নেবেন, সমাজ বা অন্য কারোর মঙ্গল কামনায় নয়। মিল আরও যুক্তি দেখান যে, ব্যাক্তি তার সুখ বা স্বার্থকে সর্বোচ্চকরনের ( Maximization of pleasure) চেয়ে মোটামুটি সুখি হওয়াকে বেছে নেবে, যদি তা কোন ধরনের ঝুকি না নিয়েই লাভ করা সম্ভব হয়। মানব-প্রকৃতির অধ্যয়নে স্টুয়ার্ট মিলের এমন আলোচনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র ব্যাক্তির জীবনেই নয়, কোন দল বা জনসমষ্টির ক্ষেত্রেও “আলোকিত ব্যাক্তিস্বার্থের” তত্ব প্রযোজ্য। কোন দল, জাতি বা রাষ্ট্র যদি আলোকিত স্বার্থের পথ বেছে নেয়, তবে তার নিজের স্বার্থ সর্বোচ্চকরনের চেয়ে অন্যদের সমষ্টিগত স্বার্থ বিবেচনায় রাখে। কেননা শুধু নিজের স্বার্থের জন্য কাজ করলে এবং আপরের স্বার্থকে বিবেচনা না করলে দন্দ্ব, বিরোধ বা যুদ্ধের সম্ভাবনা থাকে। যার ফলে একটি রাষ্ট্র বা দল সর্বোচ্চ ঝুকির মুখে পতিত হয়।

জন স্টুয়ার্ট মিলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান হল,  উদারতাবাদের জনক, জেরেমি বেনথাম, উপযোগের যে ধারনা দিয়েছিলেন তিনি তা পুনঃমূল্যায়ন করেন। মিল সুখ বা স্বার্থের গুনগত দিক নির্ধারনে প্রয়াসী হন। স্টুয়ার্ট মিলের মতে, কিছু সুখ বা স্বার্থ কিছু অন্য সুখ বা স্বার্থের চেয়ে অধিকতর গুণসম্পন্ন। তিনি সুখ বা স্বার্থের এক পিরামিডীয় মডেল প্রস্তুত করেন। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, একটি কবিতার উপযোগ হয়তো একটি বার্গারের চেয়ে বেশি। আবার একটি কবিতার থেকে হয়তো সংগীতের উপযোগ বেশি।

আলোকিত ব্যাক্তিস্বার্থের পথে চলবেন এমন আলোকিত মানুষ গড়ার ক্ষেত্রে স্টুয়ার্ট মিল আস্থা রেখেছেন শিক্ষা, জ্ঞান এবং সংযমে। সেই সাথে তিনি সবার জন্য শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা রাষ্ট্রের অপরিহার্য দায়িত্ব বলে মনে করেন এবং এই শিক্ষায় ব্যাক্তি, দল এবং জাতীয় স্বার্থকে আলোর পথ দেখাবে। শিক্ষা ভোগবাদী সমাজকে পরিনত করবে নাগরিক সমাজে।

The writer is a student of the Department of International Relations, University of Dhaka. He is currently in his 3rd year.

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Read

Featured