Homeবাংলাদেশক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প এবং বাংলাদেশ

ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প এবং বাংলাদেশ

বাংলাদেশ দক্ষিণ -পূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত একটি কৃষি প্রধান দেশ। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে এবং দেশটির উপর দিয়ে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় দেশটির অর্থনীতি প্রধানত কৃষির উপর নির্ভরশীল। কিন্তু দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কৃষির পাশাপাশি শিল্প খাতের উন্নয়ন অনস্বীকার্য। কৃষিনির্ভর অর্থনীতি থেকে বাংলাদেশ শিল্পোন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বহুদূর এগিয়ে গিয়েছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে জমির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাচ্ছে। তাই ১৭কোটি মানুষের দেশে শিল্পোন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। দেশে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে খাদ্য উৎপাদন বাড়লেও জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও জমির অপরিকল্পিত ব্যবহারের ফলে কৃষিখাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। অপরদিকে, শিল্প খাতে বিনিয়োগ, উৎপাদন, আয়বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের রয়েছে অফুরন্ত সম্ভাবনা।
বাংলাদেশ যেহেতু প্রাকৃতিক দূর্যোগ প্রবণ দেশ তাই প্রতিবছর কৃষকের বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং কৃষক দেনা শোধ করতে না পারায় ঋণগ্রস্থ হয়। সেইসঙ্গে বাংলাদেশ জনসংখ্যা বহুল দেশ এবং নানারকম সামাজিক সমস্যায় জর্জরিত। অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতার কারণে কৃষিখাতে জিডিপির প্রবৃদ্ধি কমে আসছে। তাই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে শিল্প খাত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মানউন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, দারিদ্র্য বিমোচনেে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্প খাতের বিকাশ শিল্পোন্নয়নের চালিকাশক্তি হিসেবে বিশেষভাবে গুরুত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃহৎ শিল্পের তুলনায় ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্প কম পুঁজিনির্ভর, কর্মসংস্থান এবং আয়ের সুযোগ বেশি। বিদ্যুত ও জ্বালানি শক্তির ব্যবহারও অপেক্ষাকৃত কম এবং পরিবেশ দূষণের মাত্রা কম। অফুরন্ত সম্ভাবনার দেশ আমাদের বাংলাদেশ। আমাদের রয়েছে বিপুল কর্মজনগোষ্ঠী যারা বেকারত্ব জীবনযাপন করছে, শিক্ষিত হয়েও চাকুরি পাচ্ছে না, মূলধনের অভাবে ব্যবসায় সম্পৃক্ত হতে পারছে না। তাই এই বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্পে বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের বিপুল সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।
দেশের সর্বত্র শহর ও গ্রাম-গঞ্জে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কারখানা এবং বহুকারুপল্লী। এইসব কারুপল্লীতে উৎপাদিত হয়ে থাকে বিপুল পরিমাণ হস্ত, কুটির ও কারুপণ্য সামগ্রী। কারুপল্লীতে সাধারণত পরিবারের লোকজন বংশপরম্পরায় কাজ করে থাকে এবং এ শিল্পে শৈল্পিক দক্ষতা ও সৃজনশীলতা অনেক প্রাধান্য পায়। এই শিল্পের মধ্যে রয়েছে মৃৎশিল্প, বাঁশ ও বেতজাত পণ্য, তাঁত শিল্প, মাদুর, জামদানি, বেনারসি, নকশিকাথাঁ, তালপাখা, শতরঞ্জি, হোসিয়ারি পণ্য, শীতলপাটি, গুড় তৈরি, শাখের অলংকার ইত্যাদি উৎপাদিত হয়। এই পণ্যগুলোর দেশীয় বাজারে বিপুল পরিমাণ চাহিদা রয়েছে এবং বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। এছাড়াও সমুদ্র থেকে আহরিত শামুক -ঝিনুক দিয়ে বানানো নান্দনিক ডিজাইনের অলংকার, খেলনা, ফলক ও কারুপণ্যের ও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। অন্যদিকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে উন্নত প্রযুক্তি ও মূলধন প্রয়োজন হয়। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প যেমনঃ সাবান শিল্প, জুতা শিল্প, চামড়া শিল্প, ডেইরি ও পোল্ট্রি শিল্প, পোশাক শিল্প ইত্যাদি আমাদের অর্থনীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সাহায্য করবে। বিদেশে চামড়ার তৈরি ব্যাগ, জুতো, বেল্ট, জ্যাকেটের বিপুল পরিমাণ চাহিদা রয়েছে। তাই এই শিল্পগুলোর উন্নয়ন ত্বরান্বিত করে আমাদের জিডিপির পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজার সৃষ্টির মাধ্যমে এই পণ্যগুলো বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে দেশের সুনাম অক্ষুন্ন থাকবে।
বাংলাদেশ যেহেতু জনবহুল দেশ এবং বিপুলসংখ্যক জনশক্তি থাকলেও প্রযুক্তি খাতে তারা অদক্ষ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য মতে, বাংলাদেশে বেকারের সংখ্যা ২৬লাখ ৩১হাজার বলা হলেও প্রকৃত বেকারের সংখ্যা অনেক বেশী। বেকারত্ব বাড়ছে এমন ২০টি দেশের তালিকার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২তম। বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত বেকারের হার ৯শতাংশের বেশী  বেকারত্বের কারণে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে হতাশা ক্রমেই বাড়ছে কারণ চাকুরির বাজার সংকুচিত এবং বিসিএস পরীক্ষায় ক্যাডার হতে না পারার ব্যর্থতা। দেশে উচ্চশিক্ষিতের হার যেমন বাড়ছে, ঠিক তেমনই বেকারত্বের হারও বাড়ছে। অন্যদিকে, বেসরকারি গবেষণা  প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট  রিসার্চ কর্তৃক পরিচালিত এক প্রতিবেদনে দেশে উচ্চশিক্ষিত স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের মধ্যে বেকারত্বের হার ১৬.৪শতাংশ। গত ১০বছরে কৃষিখাত, শিল্প খাত ও নির্মাণ খাতে কর্মসংস্থান কমেছে। তাই স্বল্প পুঁজিতে অধিকসংখ্যক কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে ক্ষুদ্রও মাঝারি শিল্প খাতে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সমীক্ষা অনুসারে, বাংলাদেশের জিডিপিতে এই খাতের অবদান ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। বর্তমানে দেশের প্রায় আড়াই কোটি মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে। যেহেতু বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মূলধনের পরিমাণ কম এবং অবকাঠামোগত কারণে কৃষিতে উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে না তাই বাংলাদেশের উদ্ভাবনী ও জ্ঞানসমৃদ্ধ অর্থনীতি বিনির্মাণে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্পের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যদিও কিছু অসুবিধা এবং পপশ্চাৎপদতা রয়েছে এই শিল্পগুলোতে তাই সেগুলো উত্তম পরিকল্পনার মাধ্যমে দূর করতে হবে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০২১সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার লক্ষ্যে রুপকল্প -২০২১ গ্রহণ করেছে। তরুণদের প্রযুক্তি খাতে দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন যুব উন্নয়ন কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে, গ্রামীণ মহিলাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে, ক্ষুদ্র ঋণদান কর্মসূচির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিসিক ও এসএমই ফাউন্ডেশন কর্তৃক ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্পের উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখাসহ সার্বিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করা এবং এসএমই’র বিকাশকে ত্বরান্বিত করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ক্ষুদ্র শিল্পে ঋণের সীমা ৫০হাজার থেকে ৫০লাখ পর্যন্ত রাখা হয়েছে। এসএমই খাতে ঋণ প্রদান নারী উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই সম্ভাবনাময় নারী উদ্যোক্তাদের এখাতে অংশগ্রহণ বৃদ্ধির জন্য কমপক্ষে ১৫শতাংশ নারী উদ্যোক্তাদের অনুকূলে বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং সুদের হার ১০শতাংশ রাখা হয়েছে। নারী উদ্যোক্তারা ব্যক্তি গ্যারান্টি দিয়ে ২৫লাখ পর্যন্ত ঋণ গ্রহণ করতে পারে। দেশের অর্থনীতিকে চালিত করছে গার্মেন্টস শিল্পে নিয়োজিত নারীরা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো মোট বিতরণকৃত ঋণের ৪০শতাংশ এসএমই খাতের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। এখাতকে আরও এগিয় নেওয়ার জন্য সরকার ঘোষিত নীতিমালার আলোকে এর যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর জোর দিতে হবে এবং এসএমই খাতের উন্নয়নের জন্য কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি করতে হবে। এর ফলে একদিকে যেমন বেকার সমস্যার সমাধান হবে, অন্যদিকে দেশের অর্থনীতিতে আরও গতি সঞ্চার হবে।
দেশের কৃষি এবং সমগ্র শিল্পখাতের পাশাপাশি সংকটে থাকা ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্পখাতকে সহায়তার লক্ষ্যে ঘোষিত হয়েছে ২০হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা। সরকার প্রদত্ত এই প্রণোদনাকে আমাদের সঠিক সময়ে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। এই খাতগুলোতে গতি সঞ্চার করতে প্রয়োজনীয় কিছু নীতিমালা গ্রহণ করা যেতে পারে।
১. ঘোষিত ২০হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা প্যাকেজ ক্ষতিগ্রস্থ ও সত্যিকার উদ্যোক্তাগণকে দ্রুততার সাথে যথাসময়ে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।
২.বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও অর্থলগ্নকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, বিসিক, তাঁত বোর্ড, রেশম বোর্ড, এসএমই ফাউন্ডেশন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্যবাদে সমন্বয়ে নির্ধারিত কার্যপরিধিসহ প্রণোদনা বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।
৩.ক্ষতিগ্রস্থ ও সত্যিকার উদ্যোক্তা বাছাই করে সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সুদবিহীন ঋণ দেওয়া যেতে পারে।
৪. দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কারুপল্লীসমূহ এবং গুচ্ছভিত্তিক অবস্থিত শিল্পগুলোর প্রতি ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনে তাদের জন্য আলাদা ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে।
৫.পোশাক শিল্পের বাজারকে আরও সম্প্রসারিত করতে হবে। শুল্ক সুবিধা,জিএসপি সুবিধা, যাতাযাত খরচ কমানো, ইপিজেড প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে হবে। পোশাকের ডিজাইনে অত্যধিক বৈচিত্র্য এবং সৃজনশীলতা আনতে হবে। বিভিন্ন দেশের চাহিদা অনুযায়ী পোশাকের নকশা করতে হবে। তরুণ উদ্যোক্তাদের এই খাতে সুদবিহীন ঋণ দিতে হবে।
৬.চামড়া শিল্প, সাবান শিল্পকে আরও উন্নত করতে হবে। কারখানার পরিবেশ উন্নত করে শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। পোল্ট্রি এবং ডেইরি শিল্পে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজার সৃষ্টির মাধ্যমে পণ্যের গুণগত মান বজায় রেখে বৈচিত্র্য আনতে হবে এবং বিদেশে রপ্তানির করার সুযোগ খুঁজতে হবে।
৭. কুটির শিল্পের পণ্যগুলোকে আন্তর্জাতিক মহলে পরিচিতি করাতে হবে। বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাথে সংগতিপূর্ণ পণ্যগুলোকে আন্তর্জাতিক মহলে পরিচিত করাতে হবে। বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত সভা, সেমিনারে কুটির শিল্পের পণ্যের কথা তুলে ধরতে হবে।
৮.তরুণদের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের প্রতি এগিয়ে নিয়ে আসতে হবে এবং উৎসাহিত করতে হবে। তাদের বেকারত্ব দূরীকরণে স্বল্প পরিসরে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে।
৯.মাঝারি শিল্পের পণ্যগুলোকে বিদেশে রপ্তানির করার সুযোগ খুঁজতে হবে।
১০.তুলনামূলক চাহিদাকৃত পণ্যের মান উন্নত করতে হবে এবং তরুণদের সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটাতে হবে পণ্যের গুণগত মান উন্নয়নে।
১১.স্থানীয় পণ্য বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রির মাধ্যম খুঁজতে হবে। এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ই-কমার্সের মাধ্যমে তরুণরা বিজ্ঞাপণের প্রসার ঘটিয়ে পণ্যের মার্কেটিং করে স্বাবলম্বী হতে পারবে।
১২.প্রত্যন্ত গ্রামের যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে, মালামাল পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত গাড়ির ব্যবস্থা করতে হবে।
সর্বোপরি তরুণদের কুটির শিল্পে প্রশিক্ষণ ও উৎসাহিত করার মাধ্যমে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ক্ষুদ্র ঋণ দানের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা গতিশীল করা সম্ভব। তাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উদ্ভাবনী ও জ্ঞানসমৃদ্ধ অর্থনীতি বিনির্মাণে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্পের ভূমিকা অনেক।
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Read

Featured