Homeইউরোপের ইতিহাসজার্মানির প্রতীক ঈগল হওয়ার গল্প

জার্মানির প্রতীক ঈগল হওয়ার গল্প

ভূমিকা

জার্মান ঈগল, যা বর্তমানে বুন্দেস আডলার (Bundesadler বা Federal Eagle) জার্মানির জাতীয় প্রতীক, অন্তত গত ১২০০ বছর ধরে. কালের বিবর্তনে এর নাম এক সময়ে রাইখস আডলার (Reichsadler বা  Imperial Eagle) থেকে ডয়েছে আডলার (Deutsche Adler বা German Eagle) এক সময় ছিলো।[1] যখন  ফ্রাংক রাজা শার্লামেইন (Charlamagne) এর নেত্রিত্বে ৮০০ খ্রিস্টাব্দে পবিত্র রোমান সম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা লাভ করে। তখন প্রতীকে দুই মাথা-ওয়ালা বিশিষ্ট ঈগল ছিলো। ধারণা করা হয়, গ্রীক দেবতা জিউস বা রোমান দেবতা জুপিটারের প্রতীক ছিলো ঈগল। রোমান সম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়াস সিজারের দিগবিজয়ী সেনাবাহিনী বা লিজিয়নের প্রতীক অবশ্য একমাথা বিশিষ্ট ঈগল ছিলো।[2] তিনি মনে করতেন ঈগল শক্তির প্রতীক, উপস্থিত বুদ্ধির প্রতীক। ঈগল কখনোই গায়ের জোড়ে শত্রুকে ঘায়েল করে না; বরঞ্চ অবস্থা অবলোকন করে সুযোগ বুঝে আকাশ থেকে অতর্কিত ভাবে ছো মেরে শত্রুকে ঘায়েল করে। জুলিয়াস সিজার বাস্তব জীবনেও ঈগলের মতোন সুযোগ বুঝে শত্রুদের সকল পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়ে যুদ্ধে জয়লাভ করেছেন।  

চিত্র-১: ঈগলকে শুরুতে গ্রিক দেবরা জিউস বা রোমান দেবতা জুপিটারের প্রতীক ধরা হলেও রোমান সেনাপতি এবং পরবর্তিতে একনায়ক জুলিয়াস সিজারের (খ্রিস্টপূর্ব ১০০ – খ্রিস্টপূর্ব ৪৪) চিহ্ন হিসেবেই রোমান সম্র্যাজ্যের প্রতীক হিসেবে গৃহীত হয়। 

একমাথা থেকে দুইমাথা বিশিষ্ট ঈগল

একমাথা বিশিষ্ট ঈগল (জুলিয়াস সিজার থেকে সর্বশেষ রোমান সম্রাট রোমিউলাস অগাস্টুলুসের ৪৭৬ খ্রিষ্টাব্দে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগ পর্যন্ত) থেকে দুইমাথা বিশিষ্ট ঈগল প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করার জন্য বাইজান্টাইন সম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা এবং রোমান সম্রাজ্যের প্রথম খ্রিস্টান সম্রাট কন্সটান্টিন (Constantine) কে কৃতিত্ব দেওয়া হয়। তিনি ৩২৫ খ্রিস্টাব্দে ইউরোপ ও এশিয়া মহাদেশের মাঝামাঝি বসফোরাস প্রণালিতে প্রতিষ্ঠা করেন নিজের নামানুসারে কন্সটান্টিনোপল (Constantinople) বা “কন্সটান্টিনের শহর”। এই শহরের মহত্ব বোঝাতে তিনি দুইমাথা বিশিষ্ট ঈগলের প্রচলন  করেন।[3] এখানে দুই মাথা দিয়ে তিনি ইউরোপ ও এশিয়া মহাদেশে রোমান সম্রাজ্যের ব্যাপ্তি বুঝিয়েছেন। এই দুই মাথাবিশিষ্ট ঈগলই পরবর্তীকালে বাইজানটাইন সম্রাজ্য (৩৯৫-১৪৫৩), পবিত্র রোমান সম্র‍্যাজ্য (৮০০-১৮০৬) এবং বর্তমানে রাশিয়ার প্রতীক (১৭০২-বর্তমানে) ব্যবহার হয়ে আসছে। এখন দুই মহাদেশের বদলে এই দুইমাথা বিশিষ্ট ঈগল চারদিকে সকল রাষ্ট্রকে পরাজিত করে সম্র‍্যাজ্য হওয়ার ইচ্ছাকেই প্রতিনিধিত্ব করে। যদিও আদতে তিনটি সম্র্যাজ্য বা দেশই নিজদের রোমান সম্রাজ্যের গর্বিত উত্তরসূরি দাবী করতো।  

চিত্র-২: রোমান সম্রাজ্যের প্রথম খ্রিস্টান সম্রাট কন্সটান্টিন এবং রোমান সম্রাজ্যের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে দাবী করার জন্য বাইজান্টাইন সম্রাজ্য (বামে), পবিত্র রোমান সম্রাজ্য (মাঝে) এবং রাশিয়া (ডানে) দুই মাথা বিশিষ্ট ঈগলের প্রতীক ব্যবহার করেছে বা করে আসছে।

টিউটোনিক অর্ডার এবং হাত্তিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ 

এখন কথা হলো, জার্মানির প্রতীক কিভাবে একমাথা বিশিষ্ট ঈগল হলো? আমরা সবাই খ্রিস্টান-মুসলমানদের মধ্যে ক্রুসেড (Crusade) বা ধর্মযুদ্ধের কথা জানি। মুসলমানদের থেকে পবিত্র নগরী জেরুজালেম উদ্ধারের জন্য খ্রিস্টানদের উদ্বুদ্ধ করতে ফ্রান্সের ক্লার্মন্ট শহরে ১০৯৩ সালে ভ্যাটিকেনের পোপ দ্বিতীয় আর্বান ক্রুসেডের ঘোষণা দিয়েছিলেন।[4] যতোই না এখানে জেরুজালেম উদ্ধার করার উদ্দেশ্য ছিলো, তার চেয়েও বেশি বড় কারণ ছিলো ইউরোপে খ্রিস্টান রাজাদের নিজেদের মধ্যে কলহ-বিবাদ ও যুদ্ধের ইতি টানা ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে সেই মনোযোগ ধাবিত করা। সে জন্য ইউরোপের তৎকালিন প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র তথা ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, পবিত্র রোমান সম্রাজ্য (জার্মানি এবং এর পার্শ্ববর্তী জার্মান ভাষাভাষী এলাকা) এবং বাইজানটাইন সম্রাজ্য বিশাল সেনা বহর নিয়ে পবিত্র ভূমি বা Holy Land এর অবস্থানরত মুসলমানদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে ১০৯৫ সালে। মাত্র চার বছরের প্রচেষ্টায় মিসরের ফাতিমিদ সেনাদের হটিয়ে খুব সহজেই ১০৯৯ সালে জেরুজালেম দখল করেন ফরাসি ডিউক গডফ্রে দে বুইওন (Godfrey de Bouillon)।

চিত্র-৩: ভারী বর্ম পরিহিত, সুপ্রশিক্ষিত এবং সুঠাম দেহের অধিকারী জার্মানির টিউটনিক অর্ডারের নাইটসদের সাথে মুসলমানদের লড়াই করা অত্যাধিক কঠিন ছিলো।

পরবর্তিতে মুসলমানদের আক্রমণ প্রতিহত করে পবিত্র নগরী জেরুজালেমের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ইউরোপ থেকে আগত জেরুজালেমের পথে তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য ১১১৯ সালে নাইটস টেমপ্লার (Knights Templar) এবং ১০৭০ সালে নাইটস হস্পিটলার (Knights Hospitaller) প্রতিষ্ঠা লাভ করে। কিন্তু সেখানে ফরাসি, ইংরেজ এবং ইতালিয় নাইট (Knight) এবং সেনাদেরই বেশি আধিক্য ছিলো। এমতাবস্থায় জার্মানির গৌরব ও মর্যাদার জন্য পবিত্র রোমান সম্র‍্যাজ্যের সম্র‍্যাট ফ্রেডারিক বার্বারোসা (Friedrich Barbarossa; ১১২৩-১১৯০) জার্মান নাইট এবং প্রতিভাবান সেনা নিয়ে একটি সমীহ জাগানো  বাহিনী তৈরি করেন, যার নামকরণ করেন টিউটোনিক অর্ডার (Teutonic Order বা পূর্ণরুপ The Order of Brothers of the German House of Saint Mary in Jerusalem) ১১৮৬ খ্রিষ্টাব্দে। ১১৮৭ সালে এই টিউটোনিক নাইটদের সাথেই মুসলিম বীর সালাদিন (Saladin) বা গাজী সালাউদ্দীন (১১৩৭-১১৯৩) তে জেরুজালেমের অদুরে  হাত্তিন প্রান্তরে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়।[5] এই যুদ্ধে জেরুজালের রাজা গি দ্যা লুসিননের (Guy de Lusignan) নেত্রিত্বে খ্রিস্টান বাহিনী পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যেত, যদি না টিউটোনিক অর্ডার ও নাইটস টেম্পলার (Knights Templer) নিজেদের জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ না করতো। যদিও এই যুদ্ধে পরাজয় বরণের জন্য খ্রিস্টানদের থেকে জেরুজালেম ৮৭ বছর পর হাতছাড়া হয়ে যায়।

চিত্র-৪: ১১৮৭ সালে সঙ্ঘটিত হাত্তিনের যুদ্ধে শোচনীয় ভাবে পরাজিত হওয়ার পর মুসলিম বীর ও আইউবিদ সুলতান গাজী সালাউদ্দিনের কাছে আত্নসমর্পণ করছেন জেরুজালেমের রাজা গি দ্যা লুসিনন, নাইটস টেমপ্লারের গ্র্যান্ডমাস্টার জেরার্ড দ্যা রিডফোর্ট এবং টিউটোনিক অর্ডারের গ্র্যান্ডমাস্টার সিব্র্যান্ড।

তবে মুসলিম বীর গাজী সালাউদ্দীন কিন্তু ঠিকই টিউটোনিক অর্ডার এবং নাইটস টেমপ্লার বাহিনীকে যথেষ্ট সম্মান প্রদর্শন করেছিলেন যুদ্ধের ইতি টানার পর। এখানে বলে রাখা ভালো, টিউটোনিক অর্ডারের নিয়ম ছিলো তাদেরকে কেউ যুদ্ধে পরাজিত করলে সেই বিজয়ীর চিহ্ন বা প্রতীক তারা রেখে দিতো যাতে সেই পরাজয় থেকে তারা ভবিষ্যৎ এর শিক্ষা নিতে পারে। এমতাবস্থায় গাজী সালাউদ্দীনের প্রতীক ছিলো একমাথা বিশিষ্ট ঈগল। যখন টিউটনিক অর্ডারের গ্র‍্যান্ডমাস্টার সিব্র‍্যান্ড (Siebrand) গাজী সালাউদ্দীনের নিকট তাঁর প্রতীক সংবলিত পতাকা চাইলেন, গাজী সালাউদ্দীন যেন আকাশ ভেঙে পড়লেন। তিনি আশ্চর্যের সাথে জিজ্ঞাসা করলেন,[6]  

সালাউদ্দীন: আপনি আমার কাছে তো অন্য অনেক কিছুই চাইতে পারতেন। আপনার সৈন্যরা যুদ্ধে ভালো লড়াই করেছে৷ তাদের জন্য না হয় আমি খাদ্য-পানীয় ও দেখভালের জন্য চিকিৎসকের ব্যবস্থা করতাম। কিন্তু আমার সাঞ্জাক (প্রতীক সংবলিত পতাকা) নিয়ে আপনি কি করবেন?

সিব্র‍্যান্ড: আজ হাত্তিনের প্রান্তরে আমাদের জার্মান নাইটরা (টিউটোনিক অর্ডার) কোন মুসলমানের নিকট পরাজয় বরণ করেনি। আমরা পরজয় করেছি এক মহান বীরের কাছে, যিনি শুধু তাঁর প্রতীক ঈগলের মতোন বুদ্ধিদীপ্ত এবং সুযোগসন্ধানী নন, তিনি এতোটাই গর্বিত যে তাঁর পা আকাশে উড়ন্ত ঈগলের মতোন কখনোই মাটিতে স্পর্শ করে না। আপনি চাইলে আজ আমাদের টিউটোনিক অর্ডার এবং বাদবাকী সমস্ত খ্রিস্টান বাহিনীকে সমূলে ধ্বংস করে দিতে পারতেন। কিন্তু তা না করে আপনি আমাদের জিজ্ঞাসা করছেন আমাদের কোন কিছু লাগবে কিনা। আপনি আমাদের শুধু যুদ্ধের ময়দানের পরাজিত করেন নি, আপনি আমাদের নৈতিকভাবে পরাজিত করেছেন। তাই আপনার প্রতীককে জার্মানিতে আমার এলাকা প্রাশিয়া (Prussia) তে নিয়ে যেতে চাই, যাতে আমাদের জার্মান মানুষজনকে বলতে পারি আমরা কোন মুসলমানের কাছে পরাজয় বরণ করিনি। আমরা এই পতাকার ঈগলের মতোই গর্বিত ও মহান ব্যাক্তির কাছে পরাজয় বরণ করেছি।

প্রাশিয়ার উত্থান

পরবর্তিকালে গাজী সালাউদ্দীনের ঈগল সাঞ্জাককে জার্মানরা নিজেদের মতোন করে গ্রহণ করেছে। বারোশত শতাব্দিতে প্রাশিয়া জার্মানির তেমন কোন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল ছিলো না, অনেকটাই বর্তমান ভাষায় অজপাড়াগাঁ ছিলো। কিন্তু টিউটোনিক অর্ডারের সদর দপ্তর এই প্রাশিয়াতেই অবস্থিত ছিলো। এই অবস্থানের জন্যই কিন্তু  ১৫২৬ সালে ভ্যাটিকেনের অবৈধ কার্যক্রম এবং ধর্মকে অর্থলাভে ব্যবহার করার কারণে তৎকালিন টিউটোনিক  অর্ডারের গ্র‍্যান্ড মাস্টার আলবার্ট (Albert বা জার্মান ভাষায় আলব্রেক্ট) রোমান ক্যাথলিক খ্রিস্টান ধর্ম ছেড়ে প্রটেস্ট্যান্ট খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন।[7] যেহুতু ততকালিন জার্মানির ভিটেনবার্গ (Wittenburg) শহরের পাদ্রী মার্টিন লুথার (Martin Luther) ১৫১৭ সালে ভ্যাটিকেনের পোপের আরোপ করা অনৈতিক ও অবৈধ রীতিনীতির বিরোধীতা করেছিলেন, তাকে জার্মানির অনেক রাজা-রাণী এবং গ্রান্ড ডিউক-ডাজেস সমর্থন দিয়েছিলেন। তারা সুযোগ বুঝেই সমর্থন দিয়েছিলেন কারণ পোপ ধর্মীয় নেতা হওয়ার পরেও ইউরোপের প্রতিটি দেশের রাজনীতিতে নাক গলাতেন নিজের স্বার্থ ও প্রভাব বিস্তারের জন্য।  

চিত্র-৫: প্রাশিয়ার প্রথম ডিউক আলবার্ট ভন প্রাশেন (বামে) এবং তাঁর প্রতীক এক মাথা বিশিষ্ট ঈগল, যা বর্তমান জার্মানির ঈগল প্রতীকের পূর্বসূরি।

কিন্তু গ্র‍্যান্ডমাস্টার আলবার্ট ছিলেন পুরোপুরিভাবে ভ্যাটিকেনের অনৈতিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে। তিনি মনে করতেন টিউটোনিক অর্ডার রাও ঈগলের মতো মহান, গর্বিত ও নীতিবান। তারা কোনদিনও পোপকে তার অবৈধ ও অনৈতিক কাজে সমর্থন করে নিজেদের পা মাটিতে নামাবে না। তাই তিনি একপ্রকার নিজেদের প্রতীক হিসেবে সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে কালো ক্রুশ চিহ্ন বাদ দিয়ে গাজী সালাউদ্দীনের ঈগলকে কিছুটা নিজেদের মতোন করে পরিবর্তন করে প্রাশিয়া ও টিউটোনিক অর্ডারের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা শুরু করেন। এই জন্য ১৫২৭ সালে পোপ সপ্তম ক্লেমেন্ট তাঁকে এবং টিউটোনিক অর্ডারকে খ্রিস্টান গীর্জা থেকে এক্সকোমিউনিকেশন (Excommunication) বা চিরতরে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে ঠিক ঐ বছরেই তিনি ভ্যাটিকেনের পোপের অপশাসন থেকে প্রাশিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।[8] নিজের নামকরণ আলব্রেক্ট ভন প্রাশেন (Albrecht Von Preussen) করে জার্মানির অন্য প্রটেস্ট্যান্ট রাজ-রাজা বা ডিউকের সমর্থনে তিনি প্রাশিয়াকে ডাচি (Duchy) রাষ্ট্রমর্যাদায় রুপান্তরিত করেন। 

চিত্র-৬: প্রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান মানচিত্র (১৪১০-১৭৭২)।

নব্যপ্রতিষ্ঠিত ডাচি প্রাশিয়া শাসনের জন্য তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন (টিউটোনিক অর্ডারের সদস্যেরা সাধারণত বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হতো না এর আগে; তাঁরা যিশু খ্রিস্টকে অনুসরণ করে চিরকুমার রয়ে যেতেন) হোহেনজোলার্ন বংশের (House of Hohenzollern) রাজকন্যার সাথে। এর ফলে হোহেনজোলার্ন বংশ সামান্য মার্গ্রেভ থেকে ইউরোপের প্রভাবশালী ডিউকের বংশে পরিণত হয়। সেখান থেকে আলবার্টই হন প্রথম শাসক। শুরুতে ডাচি দিয়ে শুরু হলেও একসময় ১৭০১ সালে প্রাশিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্য (Kingdom of Prussia) হিসেবে স্বকৃতি দান করেন পবিত্র রোমান সম্রাট ও হ্যাবসবার্গ সম্র‍্যাজের শাসক ষষ্ঠ চার্লস (Charles VI)।[9] এই প্রাশিয়াই কিন্তু চ্যান্সেলর অটো ভন বিসমার্কের নেত্রিত্বে ১৮৭১ সালে বর্তমান জার্মানির একত্রিকরণ এবং ফ্রান্সকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়। টিউটোনিক অর্ডারের সাবেক গ্র‍্যান্ডমাস্টার এবং যুদ্ধাংদেহী মনোভাবের জন্য বিখ্যাত আলব্রেক্ট ভন প্রাশেনকে এই জন্যই বোধহয় ফরাসি দার্শনিক ভলটেয়ার মজা করে বলেছিলেন,  

“All states have an Army. But the Prussian Army has a state”.[10]

বাংলায় বলতে গেলে সব রাষ্ট্রেরই নিজস্ব সেনাবাহিনী আছে। কিন্তু এক প্রাশিয়ার সেনাবাহিনীরই নিজস্ব রাষ্ট্র আছে। আর সেই রাষ্ট্র অর্জনের পথে ঈগলের মতো মহত্ব ও গর্ব অনেকটাই পাথেয় ছিলো।

 

References 

[1]  Brian A. Pavlac; Elizabeth S. Lott (2019). The Holy Roman Empire: A Historical Encyclopedia [2 volumes]. ABC-CLIO. p. 199. ISBN 1440848564.

[2] Yates, James, “Signa Militaria” in Smith, William, A Dictionary of Greek and Roman Antiquities, John Murray, London, 1875, pp. 1044-1046

[3] Lumen Learning, n.d. The Eastern Roman Empire, Constantine the Great, and Byzantium | Western Civilization. [online] Courses.lumenlearning.com. Available at: <https://courses.lumenlearning.com/suny-hccc-worldhistory/chapter/the-eastern-roman-empire-constantine-the-great-and-byzantium/> [Accessed 28 July 2021].

[4] Richard Urban Butler (1912). “Pope Bl. Urban II”. In Catholic Encyclopedia. 15. New York: Robert Appleton Company.

[5] New Horizon, 2012. The Crusades Crescent and the Cross pt 2 of 2.

Available at: <https://youtu.be/TchhrTzaP5A>

[6] Himmler, H. and Katzenstein, P., 2009. The Essence Of State-Building. 1st ed. Frankfurt: Droemer Knaur, pp.119-124.

[7] Encyplopedia Britannica, 2021. Albert | duke of Prussia. [online] Encyclopedia Britannica. Available at: <https://www.britannica.com/biography/Albert-duke-of-Prussia>

[8] Thurston, H., 1908. CATHOLIC ENCYCLOPEDIA: Pope Clement VII. [online] Newadvent.org. Available at: <https://www.newadvent.org/cathen/04024a.htm> [Accessed 13 July 2011].

[9] Encyclopedia Britannica, 2020. Prussia | History, Maps, Flag, & Definition. [online] Encyclopedia Britannica. Available at: <https://www.britannica.com/place/Prussia>

[10] Russel, G., 2014. Voltaire remarked “While most states have an army the Prussian army has a state”. How far does Prussian militarism explain why Germany took a ‘special path’ as suggested by Sonderweg Theory?. [online] prezi.com. Available at: <https://prezi.com/s3rffdcsg9fa/voltaire-remarked-while-most-states-have-an-army-the-prussian-army-has-a-state-how-far-does-prussian-militarism-explain-why-germany-took-a-special-path-as-suggested-by-sonderweg-theory/#:~:text=Present-,Voltaire%20remarked%20%E2%80%9CWhile%20most%20states%20have%20an%20army,Prussian%20army%20has%20a%20state%E2%80%9D.>

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Read

Featured