Homeবাংলাদেশবর্তমান ভূরাজনীতি: কোন অবস্থান বাংলাদেশের জন্য বেশি সুবিধাজনক?

বর্তমান ভূরাজনীতি: কোন অবস্থান বাংলাদেশের জন্য বেশি সুবিধাজনক?

বাংলাদেশ, বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত দক্ষিণ এশিয়ার একটি ব-দ্বীপ রাষ্ট্র। ১৯৭১ সালে নয় মাসের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশটি পৃথিবীর মানচিত্রে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। মুক্তিযুদ্বে পরাজিত পাকিস্তানী সেনাবাহিনী বাংলাদেশের অর্থনীতিসহ প্রায় সকল অবকাঠামোগত ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়ে যায়। ফলে স্বাধীনতার পরে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের অবস্থা ছিল ভয়াবহ। এই যুদ্ধবিধ্বস্ত ভয়াবহ অবস্থা দূর করতে বাংলাদেশকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। একটা সময় যুদ্ববিধ্বস্ত ভয়াবহ অবস্থা দূর করে বাংলাদেশ উন্নয়নের মুখ দেখতে থাকে। এর পরে ধীরে ধীরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ নিজেকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে।

বিগত কয়েক বছর ধরে আমরা লক্ষ্য করতে পাচ্ছি যে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে। ভারত এবং চীন উভয় দুটি দেশই দক্ষিণ এশিয়ায় নিজের প্রভাব বিস্তার করতে একটি প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছে। এই দেশ দুটি দক্ষিণ এশীয়ার  দেশগুলোকে তাদের নিজেদের বলয়ে আনতে প্রতিনিয়ত বিরতিহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, এই কোভিড মহামারী চলাকালীন সময়ে  আমরা দেখতে পেয়েছি যে দক্ষিণ এশিয়ায় একটি ভ্যাক্সিন কূটনীতি সংঘটিত হয়েছে। কয়েকমাস আগে ভারত দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, আফগানিস্তান, মালদ্বীপে অনুদান হিসাবে লক্ষ লক্ষ কোভিড-১৯ এর ভ্যাক্সিন সরবরাহ করেছে। ভ্যাক্সিন প্রদানের মাধ্যমে ভারত এইদেশগুলোকে নিজের বলয়ে নিতে চেয়েছিল। ভ্যাক্সিন কূটনীতি ছাড়াও দক্ষিণ  এশিয়ায় নিজের প্রভাব বিস্তার করতে ভারতের  আরও বিভিন্ন উদ্যোগ চলমান রয়েছে। যেমন- ভারত দক্ষিণ  এশিয়ার দেশগুলোর সাথে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, সহযোগিতা, কৌশলগত বিভিন্ন চুক্তি স্বাক্ষর করে যাচ্ছে যাতে করে দক্ষিণ  এশিয়ার ভূরাজনীতিতে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা  করতে পারে। এছাড়াও দক্ষিণ  এশিয়ার ভূরাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে ভারত তার ভৌগলিক অবস্থানটিকেও যথাযথভাবে ব্যাবহার করে থাকে।

অন্যদিকে চীন দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান খেলোয়াড় হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। চীন যদিও ভারতের মতো দক্ষিণ এশিয়ার দেশ নয়। কিন্তু তবুও দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে চিনের যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। চীন দক্ষিণ  এশিয়ায় ভারতের আধিপত্যের লাগাম টানতে চায়। সেজন্য চীন দক্ষিণ  এশিয়াতে নিজের প্রভাব বিস্তার করতে চায়। এর জন্য বিগত কয়েক বছর ধরে চীন জোর তৎপরতা চালিয়ে আসছে। চীন দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিটি দেশে বিপুল পরিমানে আর্থিক সহায়তা এবং বিনিয়োগ করেছে। বর্তমানে চীন দক্ষিণ এশিয়ার সকল দেশগুলোর অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদার। অর্থনৈতিক শক্তি দ্বারা চীন ভারত বাদে দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের সাথে উষ্ণ সম্পর্ক স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। দক্ষিণ  এশিয়ায় ভ্যাক্সিন কূটনীতিতে চীনও এগিয়ে থাকতে চায়। ভারতের করোনা পরিস্থিতি নাজুক হওয়ার কারণে বর্তমানে ভারত কোনো দেশকেই ভ্যাক্সিন সর্বরাহ করতে পাচ্ছে না। ফলে এই মুহুর্তে ভারত ভ্যাক্সিন কূটনীতিতে খুব বেশি সুবিধা করতে পাচ্ছে না। চীন এই সুযোগটি কাজে লাগাতে চায়। তাই কোভিড সঙ্কট মোকাবেলায় চীন যৌথভাবে দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচটি দেশ বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কার সাথে একটি জরুরিভিত্তিক ভ্যাক্সিন প্ল্যাটফর্ম তৈরির পরিকল্পনা করছে। এই প্ল্যাটফর্মটি তৈরির লক্ষ্য ভ্যাকসিনের সংকট মোকাবেলা করা। এই প্ল্যাটফর্মের সদস্য দেশগুলো জরুরি অবস্থার সময় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভ্যাক্সিন পাবে।

সুতরাং আমরা দেখতে পাচ্ছি যে ভারত এবং চীন উভয়ই দক্ষিণ এশিয়ার উপর নিজের প্রভাব বজায় রাখার জন্য সর্বাত্বক প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। প্রভাভ বিস্তারের কোনো সুযোগই দেশ দুটি হাতছাড়া করতে করতে চায় না। উভয় দেশ যেভাবেই হোক দক্ষিণ এশিয়ায় নিজস্ব আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং উভয় দেশই দক্ষিণ  এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারে একে অপরকে নিজের প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করে। যা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিকে ক্রমশ জটিল করে তুলেছে।

চীন-ভারতীয় প্রতিযোগিতার পাশাপাশি, কোয়াড (কোয়াড্রিলাটেরাল সিকিউরিটি ডায়ালগ) দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। কোয়াড একটি অনানুষ্ঠানিক কৌশলগত জোট। যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়া এই চারটি দেশ নিয়ে গঠিত। কোয়াডের ধারণাটি প্রথম আসে ২০০৭ সালে জাপানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের থেকে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি যাত্রা শুরু করে ২০২১ সালের ১২ই মার্চ মার্কিন যুক্তরাস্ট্রে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নেতৃত্বে সদস্য দেশগুলির সরকার প্রধানদের সাথে বৈঠক করার মধ্য দিয়ে। কোয়াডের উদ্দেশ্য হল একটি মুক্ত এবং সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলকে সমর্থন করা। এর মাধ্যমে কোয়াড মূলত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের প্রভাব কমাতে চায়। তাই স্বভাবতই চীন কোয়াডকে এর জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে। এছাড়া অনেকে আবার কোয়াডকে এশিয়ার ন্যাটো হিসেবেও বিবেচনা করছে।

ভৌগলিক অবস্থানের কারণে দক্ষিণ এশিয়া কোয়াডের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোয়াডের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে এটি  দক্ষিণ এশিয়ায় এটি কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারে তার উপর নির্ভর করবে। তাই কোয়াড দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব হ্রাস করতে চায়। অন্যদিকে চীনও দক্ষিণ  এশিয়ায় কোয়াডের প্রভাব বিস্তারে বাঁধা দিতে চায়। ফলস্বরূপ, আমরা বলতে পারি যে আধিপত্য বিস্তারে চীন-ভারত প্রতিযোগিতার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোয়াডের কারণে দক্ষিণ এশীয় ভূ-রাজনীতিতে একটি নতুন মেরুকরন সৃস্টি হতে পারে।

চীন-ভারত প্রতিযোগিতা, কোয়াড এই সমস্ত কিছুর জন্য বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে একধরনের অস্থিরতা বিদ্যমান রয়েছে। এখন একটি গুরুত্বপুর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে এরকম একটি জটিল পরিস্থিতে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের কী অবস্থান নেওয়া উচিত?

বাংলাদেশ একটি শান্তি প্রিয় দেশ। বিশ্বের প্রতিটি দেশের সাথে সুসম্পর্ক রাখা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট। এর জন্য স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশ একটি সুস্পষ্ট পরসাস্ট্র নীতি অনুসরণ করে চলেছে। আর সেই পররাষ্ট্র নীতিটি  হচ্ছে “সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরীতা নয়”।

সব দেশের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে বাংলাদেশ সবসময় একটি নিরপেক্ষ অবস্থান ধরে রাখতে চায়। এই নিরপেক্ষ অবস্থান ধরে রাখতে গিয়ে বাংলাদেশ যেমন কোনও একক দেশের প্রতি সমর্থন করে না ঠিক তেমনই কোনও সামরিক বা রাজনৈতিক জোটকেও সমর্থন বা যোগদান করে না। উদাহরণস্বরূপ- দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশ সর্বদা একটি নিরপেক্ষ অবস্থান ধরে রাখতে পছন্দ করে। এর জন্য বাংলাদেশ পাক-ভারত সঙ্কট বা চীন-ভারত সঙ্কটে কোনও নির্দিষ্ট দেশকে সমর্থন দেয় না। বরং বাংলাদেশ সর্বদা সব পক্ষকেই সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য আহ্বান জানায়। অন্যদিকে স্নায়ুযুদ্ধের (Cold War) সময়কালেও বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (United States of America) বা সোভিয়েত ইউনিয়ন (Union of Soviet Socialist Republic) কোনও ব্লকের প্রতি সমর্থন দেয় নি। বরং বাংলাদেশ ন্যাম (নন-অ্যালাইনড মুভমেন্ট) কে সমর্থন করেছিল। কারণ বাংলাদেশ বিশ্বাস করে যে সমস্ত দেশের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ অর্জন করা যায়। আর এই কারণেই বাংলাদেশ কখনও কোনও দেশের সাথে কোনও ধরণের নেতিবাচক সম্পর্ক তৈরি করে নি।

বাংলাদেশের পঞ্চাশ বছর বয়সের একটি রাষ্ট্র। এই পঞ্চাশ বছরে বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে এখনও সাফল্য অর্জন করা বাকি রয়েছে। এছারাও বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত রাস্ট্রে পরিণত হতে চায়। যা “ভিশন ২০৪১” নামে পরিচিত। তাই যেসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্য অর্জন করা বাকি রয়েছে সেসব ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনের জন্য এবং “ভিশন ২০৪১” বাস্তবায়নের জন্য এই মুহুর্তে বাংলাদেশের প্রয়োজন অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন । আর একারণেই বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিক কূটনীতিতে অনেক বেশি জোর দিচ্ছে।.

এখানে একটি লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে যে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বিস্তার করতে চাওয়া সকল দেশগুলোর সাথেই বাংলাদেশের সুসম্পর্ক  রয়েছে। কারণ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে দেশগুলো সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। যেমন- বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে চীনের বিপুল পরিমান ঋণ সহায়তা ও বিনিয়োগ রয়েছে। পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেল এর মতো মেগা প্রকল্পগুলো চীনের মাধ্যমে নির্মিত হচ্ছে। উল্লেখ্য- পদ্মা সেতু সম্পুর্ন বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে, চীন মূলত ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে। এগুলি ছাড়াও চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। বাংলাদেশ তার বেশিরভাগ  পণ্য চীন থেকে আমদানি করে। এমনকি বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর বেশিরভাগ অস্ত্র, সরঞ্জাম চীন থেকে আমদানি করা হয়। গত বছর চীন বাংলাদেশকে ৫১৬১ টি পণ্য চীনা বাজারে শুল্কমুক্ত রপ্তানির সুযোগ দিয়েছে। তাই চীনের সাথে বাংলাদেশের একটি উষ্ণ সম্পর্ক থাকাটাই স্বাভাবিক।

অন্যদিকে, কোয়াড জোটেরও প্রায় সবগুলো দেশ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোয়াডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। কারণ এটি মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের নেতৃত্বাধীন পরিচালিত। বাংলাদেশ সবসময় মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের সাথে ভাল সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। বাংলাদেশের বৃহত্তম রপ্তানির বাজার হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এটি বাংলাদেশের আরএমজি (রেডি মেড গার্মেন্টস) খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে খুবই সহায়ক হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি পরিমাণে এফডিআই (ফরেন ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট) পায়। যা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।  এছাড়া মার্কিন যুক্তরাস্ট্র একটি পরাশক্তি দেশ। ফলে মার্কিন যুকরাস্ট্রের সাথে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক থাকাটা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ন।

কোয়াডের আরও একটি সদস্য দেশ জাপান। শুরু থেকেই জাপানের সাথে বাংলাদেশের চমৎকার সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। জাইকা (জাপান ইন্টারন্যশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি) এর মাধ্যমে জাপান বাংলাদেশকে বিশাল অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদান করে। যা বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবহন, নগর উন্নয়ন, ইত্যাদির মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রের উন্নয়নে খুবই সহায়ক হিসবে কাজ করে। জাপান বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশের অনেক মেগা প্রকল্পে জাপানের বিপুল পরিমান বিনিয়োগ রয়েছে। ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্প, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে জাপানের সম্পৃক্ততার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। বাংলাদেশে জাপানের এসকল কর্মকান্ড দুই দেশের সম্পর্ককে দিনে দিনে মজবুত করেছে।

অন্যদিকে ভারতের সাথে বাংলাদেশের অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। ভারত একটি কোয়াড সদস্য দেশ এবং দক্ষিণ একট এশিয়ার আধিপত্যবাদী শক্তি রাস্ট্র। ভারতের সাথে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের যাত্রা শুরু ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্বের সময় থেকে। ভারত বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। চীনের পরে বাংলাদেশ ভারত থেকে সবচেয়ে বেশি আমদানি করে। বাংলাদেশের কিছু অবকাঠামো উন্নয়নে ভারতের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ভৌগলিক অবস্থানের কারণে অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি ভারতের সাথে বাংলাদেশের কৌশলগত সম্পর্কও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ভারতের সাথে বাংলাদেশ স্বভাবতই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে পছন্দ করে।

এখন যেহেতু দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, তাই নিজের স্বার্থের জন্যই এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের একটি স্পষ্ট অবস্থান থাকা দরকার। ভৌগলিক অবস্থানের জন্য বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশে পরিণত হয়েছে। দক্ষিণ  এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারকারী প্রত্যেক দেশই  দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশকে পাশে রাখতে চায়। বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত যথেষ্ট দক্ষতার সাথেই দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি মোকাবেলা করে যাচ্ছে। যেসকল দেশ দক্ষিণ  এশিয়ায় নিজের প্রভাব বিস্তার করতে চায় সেসকল দেশগুলোর সাথেই বাংলাদেশ ভারসাম্যপুর্ন সম্পর্ক বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। যা ভবিষ্যতেও অভ্যাহত রাখা দরকার। আর এর জন্য প্রয়োজন দক্ষিণ  এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারকারী সকল দেশের সাথে একটি উষ্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা। এর পাশাপাশি দক্ষিণ  এশিয়ার ভূরাজনীতিতে কোনো নির্দিস্ট দেশ বা জোটের পক্ষে-বিপক্ষ্যে না গিয়ে একটি নিরেপেক্ষ অবস্থানে অটুট থাকা। আর বাংলাদেশ যদি এটি করতে সক্ষম হয়, তবে তা অর্থনীতির পাশাপাশি সার্বিকভাবে দেশের জন্য ফলপ্রসূ হবে। তাই দক্ষিণ এশীয় ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশের উচিৎ একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখা।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Read

Featured