Homeইতিহাসবাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে স্নায়ুযুদ্ধের প্রভাব

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে স্নায়ুযুদ্ধের প্রভাব

প্রতিটি ঘটনা দেখার ও বিশ্লেষণ করার বিভিন্ন দিক থাকে। কোন একটি ঘটনাকে বিভিন্ন আঙ্গিকে বিশ্লেষণ করা যায়। এটা নির্ভর করে ঘটনাটি কে দেখছেন এবং কীভাবে দেখছেন তার উপর। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ‌ও এর ব্যতিক্রম নয়। ১৯৭১ সালের আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের যেমন দেশীয় একটি প্রেক্ষাপট রয়েছে, সেইসাথে যুদ্ধকালীন সময়ের বিশ্বরাজনীতির প্রভাব‌কেও আমরা অস্বীকার করতে পারিনা।

আমরা সবাই জানি আমাদের মুক্তিযুদ্ধ স্নায়ু যুদ্ধের (১৯৪৬-৯১) সময়কালে হয়েছিল। সে সময় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রধানত দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল। ভারত ও রাশিয়া বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন দেয়, অন্যদিকে পাকিস্তান, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কেন আন্তর্জাতিক পরাশক্তিগুলো দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে? এর পিছনে কোন প্রেক্ষাপট আছে কি? যদি থাকে তাহলে সেগুলো কি কি?

এসকল প্রশ্নের তোর খোঁজার চেষ্টা করব এই লেখায়।

প্রথমেই আমাদের একটি জিনিস বুঝতে হবে। আর তা হচ্ছে বিশ্ব রাজনীতির প্রতিটি ঘটনা প্রবাহ পরস্পর সম্পৃক্ত ও সংযুক্ত। প্রতিটি দেশের পররাষ্ট্রনীতি গঠিত হয় দেশগুলোর সাথে ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও দীর্ঘদিনের পারস্পরিক চর্চার মাধ্যমে। তাই খুব তাড়াতাড়ি  কোন দেশের বৈদেশিক নীতির পরিবর্তন হয় না। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়কালটি ছিল স্নায়ু যুদ্ধের সময়। যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মাঝে যেই স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর। তখন বিশ্ব দুই মেরুতে বিভক্ত হয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বলয় এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন ও তার মিত্রদের নিয়ে সোভিয়েত বলয় তৈরি হয়। পরাশক্তিগুলোর মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধের প্রভাব থেকে মুক্ত ছিল না আমাদের মুক্তিযুদ্ধ‌ও। ইতিপূর্বে আমরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ কেন্দ্রিক দুটি পক্ষ নিয়ে  কথা বলেছিলাম। ১৯৭১ এ তাদের অবস্থান কেন ভিন্ন ভিন্ন হলো সংক্ষিপ্তভাবে ইতিহাসের আয়নায় খুঁজে দেখার চেষ্টা করব।

যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই নিজেদের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছায়া যুদ্ধ শুরু করে। উদাহরণস্বরূপ ভিয়েতনাম যুদ্ধ ,কোরিয়া যুদ্ধ, কিউবার মিসাইল উত্তেজনা, জার্মানিকে দুই ভাগ করা এবং তা নিয়ে উত্তেজনা ইত্যাদি বলা যায়। সেই সময় কার্যত বিশ্ব দুই মেরুতে ভাগ হয়ে গিয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব ব্যবস্থা কি হবে এ নিয়ে  তখনকার দুই পরাশক্তি রাষ্ট্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মাঝে আদর্শিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়। যে দ্বন্দ্ব পরবর্তীতে স্নায়ুযুদ্ধে রূপ নেয়। ক্যাপিটালিজম বা পুঁজিবাদের সমর্থক ছিল যুক্তরাষ্ট্র অন্যদিকে কমিউনিজম বা সাম্যবাদের সমর্থক ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। উভয় রাষ্ট্র এই দুই মতাদর্শের বিস্তার এবং তাদের কর্তিত প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া ছিল।

১৯৪৭ এর দেশভাগের পর পাকিস্তান রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা। সেই অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পাকিস্তান ধীরে ধীরে তার সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে মনোযোগী হয়। ১৯৪৭-৫৮ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানে শরণার্থী, অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক স্থবিরতা ইত্যাদি নানাবিধ সমস্যা থাকা সত্ত্বেও তাদের গড় মিলিটারি বাজেট ছিল বাজেটের ৬১% শতাংশ।

প্রথমদিকে পাকিস্তান সামরিক সক্ষমতার জন্য বৃটেনের উপর নির্ভর করলেও ধীরে ধীরে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে। মূলত অর্থনৈতিক ও সামরিক সাহায্যের উপর ভিত্তি করে পাকিস্তানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক জোরদার হতে থাকে। ১৯৫৪ সালে স্বাক্ষরিত হয় “মিচুয়াল ডিফেন্স এসিস্ট্যান্স এগ্রিমেন্ট”, ১৯৫৬ সালে  যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের পেশোয়ারে একটি বিমান ঘাঁটি তৈরি করে যার উদ্দেশ্য ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন এর উপর নজরদারি করা। এছাড়া বিপুল পরিমাণ অর্থনৈতিক সাহায্য, বিভিন্ন সামরিক প্রযুক্তি সরবরাহ তো ছিলই। এসবের পিছনে পাকিস্তানের স্বার্থ ছিল সামরিক দিক থেকে শক্তিশালী হয়ে তার অস্তিত্ব রক্ষা করা। কেননা দেশভাগের বছরেই ১৯৪৭ সালে কাশ্মীর কে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মাঝে যুদ্ধ হয়। ১৯৬২ তে দুই দেশের মাঝে পুনরায় যুদ্ধ হয়। তাই উভয় দেশেই নিজেদের সামরিক শক্তিমত্তা বৃদ্ধি করতে মরিয়া ছিল।

অন্যদিকে পাকিস্তানকে সাহায্য করার পিছনে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ছিল পাকিস্তান কে ব্যবহার করে সোভিয়েত ইউনিয়নের ওপর নজরদারি করা, পাশাপাশি কমিউনিজমের বিস্তার রোধ করা ডমিনো এফেক্টে (Domino effect) এবং কনটেইনমেন্ট থিওরির (containment theory) আলোকে।

এই বাস্তবতায় ভারত কৌশলগত ভূ-রাজনীতি এবং সামরিক ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলো সামনে রেখে নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে রাশিয়ার সাথে ধীরে ধীরে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে শুরু করে। ফলে ভারত  রাশিয়া থেকে বিভিন্ন সামরিক অস্ত্র ও প্রযুক্তি কিনতে আগ্রহী হয়। আরেকটি বিষয় হচ্ছে যেহেতু পাকিস্তানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক খুব ভাল ছিল, তাই ভারত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সম্পূর্ণ আস্থা রাখতে পারেনি। তাই সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন ছাড়া ভারতের সামনে আর কোন পথ খোলা ছিল না। কারণ উন্নয়নশীল দেশগুলোর পররাষ্ট্রনীতি একপাক্ষিক (Unilateral) হলে তা অনেক সময় হিতে বিপরীত হয়। তাই রাষ্ট্রগুলোর সবসময় চেষ্টা করে বহুপাক্ষিক (Multilateral) পররাষ্ট্র নীতি সাজাতে।

যদিও ভারত স্নায়ুযুদ্ধের শুরুর দিকে নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়েছিল জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন (ন্যাম) এর মাধ্যমে কিন্তু ধীরে ধীরে ভারত সোভিয়েত বলয়ে চলে যায়। সেই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ৯ আগষ্ট ২০ বছরের জন্য “শান্তি, মৈত্রী ও সহযোগিতা” চুক্তি স্বাক্ষরের পর ভারত কার্যত সোভিয়েত বলয়ে চলে যায়।

আমরা আগেই বলেছি বিশ্বরাজনীতির ঘটনাপ্রবাহ একটির সাথে অন্যটি সম্পৃক্ত। ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের এই সম্পর্ক চীন ভালোভাবে নেয়নি। কারণ ইতিমধ্যে ১৯৬২ ও ১৯৬৭ সালে সীমান্ত নিয়ে চীন- ভারত যুদ্ধ হয়। অন্যদিকে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রধানমন্ত্রী নিকিতা ক্রুশ্চেভ (১৯৫৮-৬৪) এর সময়কালে চীন ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মাঝে মার্কসিজম- লেনিনিজম এর বাস্তবায়ন নিয়ে আদর্শিক দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। সীমান্ত নিয়ে দুই দেশের মনোমালিন্য‌ও ছিল সম্পর্ক অবনতির প্রধানতম কারণ। ১৯৬৯ সালে দুই কমিউনিস্ট রাষ্ট্রের মাঝে সীমান্ত নিয়ে যুদ্ধ হয়।

সমাজতান্ত্রিক চীনের সাথে কোরিয়া যুদ্ধ, তাইওয়ান, তিব্বত ইত্যাদি ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চীনের সম্পর্ক মসৃণ না হলেও ১৯৬৯ এর সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে যুদ্ধের পর চীন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে মনোযোগী হয়। ১৯৭১ সালে বিখ্যাত “পিং পং ডিপ্লোমেসির” মাধ্যমে দুই দেশের শীতল সম্পর্কে বরফ গলতে শুরু করে। হেনরি কিসিঞ্জার গোপনে চীন সফর করে যান। এর কিছুদিন যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে চীনকে স্বীকৃতি দেয়।

এমন বিশ্ব বাস্তবতায় যখন হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলো তখন ভারত নিজ স্বার্থেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতা করেছে। কেননা প্রতিটি দেশ কোন পদক্ষেপ নেওয়ার আগে তার স্বার্থের কথা বিবেচনা করবে এটাই স্বাভাবিক। ভারতের সবচেয়ে বড় স্বার্থ ছিল যদি পাকিস্তানের একাংশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হয় তাহলে পাকিস্তান রাষ্ট্রের শক্তিমত্তা অনেকাংশে কমে যাবে। এবং ভূ-রাজনীতির দিক থেকে অন্তত পূর্ব পাকিস্তান থেকে কোন দুশ্চিন্তা থাকবে না। কারণ ইতিমধ্যে পাকিস্তান ও চীনের সাথে সীমান্ত নিয়ে ভারতের বিরোধ চলে আসছিল এবং সীমান্ত সমস্যা নিয়ে যুদ্ধ‌ও হয়েছিল। তাই যদি পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন হয়ে আলাদা একটি রাষ্ট্র গঠিত হয় তাহলে তা ভারতের জন্যই লাভ। অন্যদিকে সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে ভারতের সম্পর্ক ভালো থাকায় সোভিয়েত ইউনিয়ন সামরিক ও কূটনীতিক ভাবে ভারতের পক্ষে থাকে যা প্রকারান্তে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেই সাহায্য করেছে।

চিত্র-১ঃ ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বরে রেস-কোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দি উদ্যান) ভারতের পূর্ব কমান্ডের জিওসি লেফটেনেন্ট জেনারেল অরোরার (বামে বসা) কাছে আত্নসমর্পণ করছেন পাকিস্তানের পূর্ব কমান্ডের জিওসি লেফটেনেন্ট জেনারেল নিয়াজি (ডানে বসা)।

( প্রায় এক কোটি শরনার্থীদের আশ্রয়দান, প্রবাসী সরকারের কার্যক্রমে সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র প্রদান ইত্যাদি কারণে আমরা সব সময় ভারত সরকারের প্রতি চির কৃতজ্ঞ।)

ইতিমধ্যে আমরা জেনেছি যে চীনের সাথে ভারতের সম্পর্কের তিক্ততা অনেক আগেই শুরু হয়ে গিয়েছিল। এবং চীনের সাথে সোভিয়েত ইউনিয়নের সম্পর্ক তলানীতে গিয়ে ঠেকেছিল। তাই চীন তার নতুন মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক সম্পর্ক খারাপ করতে চায়নি। তাই তারা আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। এবং পাকিস্তানকে সামরিকভাবে সাহায্য করে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পাকিস্তানের বৈদেশিক সম্পর্ক ভালো থাকায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ কে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বলে প্রচার করতে লাগলো এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের বিপক্ষে ভেটো দিল। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিলেন বাংলাদেশের সংঘটিত গণহত্যার ব্যাপারে সরব অবস্থান নিয়েছিলেন কিন্তু ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র‌ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ও তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জার পাকিস্তানের অন্যায়ের পক্ষে নিজেদের অবস্থান ব্যক্ত করেন।

মূলত উপরে বর্ণিত দেশগুলোই ছিল মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রধান নিয়ামক। এছাড়াও এশিয়াতে ভূটান আমাদের পক্ষে ছিল। কিন্তু নেপাল ও শ্রীলঙ্কা আমাদের বিরোধিতা করেছিল। যখন ভারত পাকিস্তানের দুই অংশের বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয় তখন শ্রীলঙ্কা পাকিস্তানকে তার স্থলভাগ ব্যবহার করতে দিয়েছিল। অন্যদিকে মিশর ছাড়া অন্যান্য আরবদেশগুলো পাকিস্তানের পক্ষালম্বন করে পাকিস্তানের তথাকথিত ইসলামী দল ও সংগঠনের অপপ্রচারের কারণে। আরব দেশগুলো মনে করত পাকিস্তানের সাথে আমাদের যুদ্ধ “ইসলামী বন্ধন” ও “ইসলামী সংহতি” বিনষ্ট করবে। সেই কথিত “ইসলামী বন্ধন ও সংহতি” রক্ষার জন্য সৌদি আরব পাকিস্তানকে ৭৫ টি  জঙ্গিবিমান, ট্যাংক, হেলিকপ্টার ও সামরিক যান সরবরাহ করে।

অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা  এককথায় সর্বক্ষেত্রে বৈষম্য তদুপরি পাকিস্তানি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। ১৯৪৭-৭১ এই ২৪ বছরে মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মাঝে এত বিশাল ব্যবধান ছিল যে, বাংলার জনগণের পিঠ একপ্রকার দেয়ালে ঠেকে গিয়েছিল। অনেক প্রত্যাশার পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হলেও পাকিস্তানি শাসকদের বিমাতাসুলভ আচরণ এই এলাকার জনসাধারণকে বিক্ষুব্ধ করে তোলে। মূলত ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটে। এরপরে নানা ঘটনার প্রেক্ষিতে সেই চেতনা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বাংলার ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল জুড়ে। জাতির সূর্যসন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম সাহসিকতা এবং ভারতের সাহায্য আমাদের বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Read

Featured