Homeইতিহাসবাঙলাদেশ: শোষিত ভূমিপুত্রদের প্রথম স্বাধীন দেশ

বাঙলাদেশ: শোষিত ভূমিপুত্রদের প্রথম স্বাধীন দেশ

. উপক্রম

কয়েক হাজার বছরের বাঙালি ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির যে দম্ভ আমরা করি সেটি আদতে চলে আসা পল্লবিত জনশ্রুতি। তর্কসাপেক্ষে দ্রাবিড়, অস্ট্রিক, অনার্যভাষী, মঙ্গোল প্রমুখ দেশের অধিবাসী যাদের অবয়ব, চরিত্র, বিশ্বাস মোটাদাগে একরকম। সর্বপ্রাণবাদী, ট্যাবুভিত্তিক এই সমাজ কর্মে- আচরণে উন্নত ছিলোনা সেভাবে।

উত্তরভারতীয় সভ্য(?) ব্রাহ্মণ্য- জৈন- বৌদ্ধ ধর্ম ও সংস্কৃতি এই ব-দ্বীপস্থ অজ্ঞ, বৃত্তিজীবী শূদ্রদের শাসন- শোষণ শুরু করলে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এলেও মৌর্য-গুপ্ত-পাল-সেন-তুর্কি-মোঘল-ইংরেজ-পাকিস্তানি বহিরাগতদের কারণে আত্মসত্তার স্বাতন্ত্র্য দূরস্থান আকাঙ্ক্ষাহীন গ্লানিকর মনন প্রজন্মান্তরে বয়ে এসেছে। রাজশক্তিহীতায় ক্ষত্রিয় ভিন্ন চাঁড়াল-মেথর-মুচি-ডোম-ধোপা-সাঁওতাল-কৈবর্ত এঁরাই এই জনপদের প্রকৃত মালিক। ধর্মীয় শোষক হিসেবে ব্রাহ্মণ্যবাদীরা সামাজিক স্বীকৃতি, যাপিত সংস্কৃতি, আরাধ্য দেবতা এবং প্রশাসনিক কাঠামোকে বহির্বঙ্গীয় ছাঁচে গড়ে তুলেছে। একারণেই আমরা শ্রী চৈতন্য, রামমোহন, ঈশ্বরচন্দ্র, ওয়াহাবি আন্দোলন ইত্যাদিতে বাঙালির মৌলিক চিন্তার দৈনতা দেখতে পারি।

চিত্র-১ঃ সোমপুর বিহার, প্রাচীন পাল সম্রাজ্যের এক বিশেষ ধ্বংসাবশেষ (নওগা জেলায় অবস্থিত)

হাজার বছরের এই জাতির রাজনৈতিক জীবনে স্বশাসিত হওয়া হয়ে উঠেনি। পাল সাম্রাজ্যে কিছুটা ছিঁটেফোঁটা; কৈবর্ত দিব্যক-রুদ্রক-ভীমের বাহুবলের মাধ্যমে দেখি আমরা।

১২০৪ সালে লক্ষণ সেনকে হটিয়ে তুর্কি শাসন, এরপরে সুলতানি আমল কিংবা মোঘল সবটাই বিদেশি শক্তি; স্পষ্ট করে বললে মুসলিম শাসন এদেশের ভূমিপুত্রদের পদানত করে রেখেছে শত শত বছর। অবশ্য ইসলাম প্রচার বেশ আগেই চালু হয়েছিলো। হিন্দু- বৌদ্ধজ মুসলিম সমাজ প্রায় হাজার বছরের পুরনো। কায়স্থ- বৈদ্য- ব্রাহ্মণরা নিজেদের উপাস্য স্থানীয়দের উপর চাপিয়ে দেয়; বৌদ্ধ- জৈন ধর্মও একই দোষে দুষ্ট। শোষিত- নিষ্পেষিত নিম্নবর্গের মানুষ সুফিবাদী পীর তরিকার ইসলাম গ্রহণ করে মুসলিম হওয়া শুরু করে। সেসময়ে বিভিন্ন ধর্মের বিচিত্র উপরিপাতনও লক্ষণীয়।

কয়েক হাজার বছর ধরে বহিরাগত দ্বারা শোষিত বলেই বাঙালি আপন সত্তার রক্ষা ও বিকাশ ঘটাতে পারেনি। ক্ষুধা- দারিদ্র মানুষকে দাসবৃত্তি থেকে বের হতে দেয় না। একারণেই ভীরু, নির্জীব, কলহপ্রিয়, মিথ্যুক, প্রতারক, অকর্মণ্য হিসেবে বিদেশি পর্যটকদের কাছে পরিচিত হতে হয়েছে। হাজার বছরে বিপুল জাতির সংমিশ্রণে যে শংকরজাত অবয়ব আমরা পেয়েছি এও কি কম বিষ্ময়ের?

 

. ব্রিটিশদের দাসত্বে

বিশ্বাসঘাতকদের বদন্যতায় নবাব সিরাজউদ্দৌলার নির্মম পরিণতিতে বাঙলা  ইংরেজদের করায়ত্ত্বে আসে ১৭৫৭ সালে। যুদ্ধোত্তর সময়ে নবাবের সেনাবাহিনী ভেঙে তাবেদারদের গদির মিউজিকাল চেয়ারে বসানোর খেলা চলে বেশ কিছু কাল। খরার পূর্বলক্ষণ প্রকাশ পেতেই খাদ্য সামগ্রী মজুদ করে এক কোটি লোককে মৃত্যু মুখে ঠেলে দেয়া হয়। ভবানী পাঠক, মজনু শাহ স্বাধীনতা সংগ্রামী’র বন্দনা পেলেও চাকুরিচ্যুত সৈনিক ও স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে লুটতরাজের অভিযোগও বিদ্যমান। জমিদার কর্তৃক শোষণ, ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রথার মাধ্যমে প্রজাকে দাসে রূপান্তরিত করেছিলো। ১৮৫৯,১৮৮৫ সালের সংশোধনী এবং ১৯২৭ সালে প্রজাস্বত্ব স্বীকৃতি দেয়া হলেও বাঙালির মানসিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন শূন্যের নিচে পর্যুদস্ত হয়েছিলো। প্রশাসনিক চলতক্ষমতাহীন দিল্লি সালতানাত মাত্র ২৬ লাখ টাকার বিনিময়ে বাংলার ভাগ্য দুইশত বছরের জন্যে বিকিয়েছিলো।

চিত্র – ২: ১৭৫৭ সালের পলাশী যুদ্ধের পর ষরযন্ত্রকারী রবার্ট ক্লাইভের সাথে মীর জাফরের কথোপকথন

উনিশ শতকের জীবনযাত্রার সাধারণ মানুষ বলতে কিছুই ছিলো না, যার প্রতিফলন সেসময়ের সাহিত্যের প্রোটাগনিস্ট হিসেবে জমিদারগণের উপস্থিতি। এই শতক ব্রিটিশ ও বাঙালি বর্ণহিন্দুদের স্বর্ণযুগ। মূলত মধ্যবিত্ত কায়স্থরা চিরকাল শিক্ষিত বেশে প্রশাসনে ছিলেন। নিম্নবর্গের বাঙালি মুসলমান গত হওয়া মুসলিম শাসনে যে ছোট পদে ছিলেন, ইংরেজ আমলে সেখান থেকেও পত্রপাঠ বিদায় নিতে হয়েছিলো। ইসলামি শিক্ষার অতিঝোঁক মুসলিমদের পার্থিব অগ্রগতিতে অচ্ছুৎ করেছিলো। একইসময়ে হিন্দবর্ণের মানুষজন গোঁড়ামি ছেড়ে বিলেতি সভ্যতার স্পর্শে জ্ঞানে ও জাতে উন্নতি করেছিলেন। কিঞ্চিৎ মুসলমান সমাজ অর্থনৈতিক উন্নতি করেনি তা বলা অপলাপ হলেও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন হয়নি – এতে কোন সন্দেহ নেই। হিন্দুদের সংস্কৃত, আরবি-ফারসি দ্বারা প্রতিস্থাপিত হলে; তারা মানিয়ে নিয়েছিলেন। ফলশ্রুতিতে, ইংরেজি শিক্ষা করতেও তাদের দ্বিরুক্তি ঘটেনি। একই প্রেক্ষাপটে, বাঙালি মুসলমান অধিকতর আরবি-ফারসিতে নিজেদের গুটিয়ে নিয়ে সামাজ বিচ্ছিন্ন হয়েছিলেন।

একইসাথে প্রশাসনে, ক্ষমতায়, শিক্ষায় এগিয়ে যাওয়ায় বর্ণহিন্দুদের হাতে টাকা আসতে শুরু করলে, কর্নওয়ালিস প্রমুখ শাসকেরা হিন্দুদের জমিদারি দিয়ে বাজার থেকে প্রতিযোগী সরানো ও ভৃত্য তৈরি – দুই কাজ সুচারুরূপে সম্পন্ন করে। ১৮৬০ সাল অবধি ইংরেজ জয়গান বিরোধী প্রবলতা সাংস্কৃতিক আবহে তৈরী হয়নি।  মাইকেল, ডিরোজিও, ঈশ্বরচন্দ্র, রামমোহন,বঙ্কিম প্রমুখদের নিয়ে যে বাঙলা রেঁনেসা’র পরিচিতি সেটি আদতে রেঁনেসার ছোঁয়া, এখনও বাঙলায় কোন পুনর্জীবন আসেনি।

পদচ্যুতি, দারিদ্র, অশিক্ষা ইত্যাদি কারণে মুসলমানগণের হিন্দু বিদ্বেষ প্রবলরূপে ধারণ করে। সিপাহী যুদ্ধ ও ওয়াহাবি আন্দোলনের নিষ্ফলতা এই সমাজকে আরও হতোদ্যম করে ফেলে। উল্লেখ্য, ইংরেজপূর্ব পাঁচশত বছরের মুসলিম শাসনকালেও এদেশের মুসলমানদের অচ্ছুত- নিম্নমানের মুসলমান  বলেই জ্ঞান করা হয়েছিলো। সেসময়েও শিক্ষিত মধ্যবিত্ত কায়স্থ বর্ণহিন্দু প্রশাসনে ছিলেন, সুবিধা – যশ ভোগ করেছেন।

কোলকাতায় মুর্শিদাবাদে উর্দুভাষী বাঙালি মুসলমানরা বিএ পাশ করে বিভিন্ন পত্রিকা, সামাজিক -সাংস্কৃতিক পরিসর, কেরানির চাকুরি প্রবেশ শুরু করে। যেখানে হিন্দুদের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিলো সেখানে মুসলমানদের আবির্ভাব তাদের পথ সংকুচিত করতে লাগলো। শিক্ষিত বেকারদের উৎকণ্ঠা, শিক্ষিত সমাজনেতাদের সর্বভারতীয় হওয়ার আকাঙ্ক্ষা, পাঞ্জাব- মহারাষ্ট্রে সন্ত্রাস বৃদ্ধি পাওয়া, শিক্ষিত তরণদের মাঝে ক্ষোভ – রোষ ইত্যাদি কারণে লর্ড কার্জন বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিকে এমনভাবে বিভক্ত করেন যেন বাঙলাভাষী হিন্দুরা সর্বত্র ঊনজন হয়ে পড়ে। এর প্রেক্ষিতে ১৯০৫ সনে বঙ্গভঙ্গ হলেও ১৯১১ সালে তা রদ হয়।

চিত্র -৩: বঙ্গভঙ্গের ক্ষণস্থায়ী মানচিত্র (১৯০৫-১৯১১)

শুরুতে নওয়াব সলিমুল্লাহ বাঙলা ভাগ করতে ইচ্ছুক না থাকলেও ১০ লক্ষ টাকা ঋণের লোভে রাজী হয়ে ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ তৈরী করেন। মুসলিমদের যা দাবি-দাওয়া ছিলো সেগুলো পাওয়ার মতো যথেষ্ট যোগ্য – শিক্ষিত ছিলেন না তারা। বাঙালি ও সর্বভারতীয় হিন্দুদের ক্ষোভে ‘১১ সালে বাঙলা আবার একত্র হয়। মহাত্মা গান্ধী ১৯১৫ সালে কংগ্রেসে যোগদান করলে তা পরিপূর্ণরূপে ব্রিটিশ বিরোধী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। ১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌ চুক্তি, জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড, অসহযোগ আন্দোলন প্রভৃতি হিন্দু – মুসলিম সম্প্রীতি বৃদ্ধি করলেও ১৯২৩ সালে হিন্দু মহাসভার কার্যক্রম দেখে মুসলিম লীগ আবার জাগ্রত হয়ে ওঠে এবং ১৯৪০ সালে লাহোরে পাকিস্তান প্রস্তাব গৃহীত হয়। মূলত মুসলিম লীগের শক্তি ছিলো ইংরেজ সমর্থন ও ব্রিটিশ ভেদনীতি।

১৯৩৭ সালে ফজলুল হকের কৃষক পার্টি বেশি মুসলিম আসন লাভ করে পরে লীগে যোগ দিয়ে বাঙলার মুখ্যমন্ত্রী হন। ১৯৩৪ সালে জিন্নাহ লীগে যোগদানের পূর্বে মুসলিম লীগ স্থানীয় নেতাদের অধীনে তেমন ক্ষুরধার ছিলো না। জিন্নাহ দলটিতে আমূল পরিবর্তন আনেন। জিন্নাহর সাথে ফজলুল হকের বিরোধ হলে হক শ্যামাপ্রসাদের সমর্থনে ১৯৪১ সালে আবার মুখ্যমন্ত্রী হন। ১৯৪৩ সালে নাজিমউদ্দীন মন্ত্রসভা গঠন করেন এবং ১৯৪৬ সালে মুসলিম লীগ বিপুল আসন পেয়ে বিজয়ী হলে সেটি পাকিস্তান সৃষ্টিতে সহায়ক হয়।

চিত্র – ৪: ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর সম্মেলন, যেখানে শেরে বাংলা লাহোর প্রস্তাবনা দিয়েছিলেন

১৯৪৩ সালে বাঙালিকে  দুর্ভিক্ষে মেরে, ভারত ছাড়ো আন্দোলনে ব্যতিব্যস্ত থেকে, সিমলায় নেহেরু- জিন্নাহ নিষ্ফল কনফারেন্স দেখে, জিন্নাহর একক দেশের বায়না, শেষ দিকে নেতাদের তাড়াহুড়োয় ব্রিটিশরা মানিচিত্রে কোনরকম দাগ টেনে মানুষের জীবন -আবেগ -সমাজ- পরিবার না ভেবেই বিভক্ত করে চলে যায়। মহাত্মা গান্ধী এই ভাগের পক্ষে ছিলেন না। ফজলুল হক লাহোর প্রস্তাবের অসঙ্গতি তুলে ধরেছিলেন। সোহরাওয়ার্দী আলাদা দেশের চাইতে জিন্নাহর পেছনে থাকাই ভালো বোধ করলেন। বাঙলার হিন্দু মহাসভা বাঙলা ভাগে নাছোরবান্দা হয়ে উঠেছিলো। এভাবেই অনার্যগণ একটি স্বাধীন দেশ পাওয়ার দিকে আরও একধাপ এগিয়েছিলো। বাঙলার আদিম অধিবাসী= অনার্য = নিম্নবর্গের হিন্দু= মুসলমান। বঙ্কিম ১২৮৯ বঙ্গাব্দের আশ্বিন সংখ্যায় বঙদর্শন পত্রিকায় লিখেছিলেন,

“নীচ জাতি বলিয়া আর্যদের কাছে তাহারা ঘৃণিত- মুসলমান নীচ জাতি বলিয়া ঘৃণা করিবে না এই জন্যই মুসলমান জয়ের পর অর্ধেক অনার্য হিন্দু ইসলাম গ্রহণ করিয়াছিলা

 

. পাকিস্তানকে পরাজিত করে  জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশ হওয়া

ব্রিটিশ সরকারের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় হিন্দু- মুসলিম সম্পর্ক সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনে বিদ্বেষপূর্ণ হয়ে ওঠে ১৮৭০ সাল থেকে। যার চূড়ান্ত রূপ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর প্রকাশিত হয় এবং ১৯৩১ সাল থেকে এই ধর্মের অনুসারীদের একত্রে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। গঙ্গা কয়েক লক্ষ লোকের রক্তে রঞ্জিত হয়ে, কোটি পরিবার সন্তান সন্তান হারানোর শোকে মুহ্যমান হয়ে ১৯৪৭ সালে ইংরেজ কর্তৃক ধর্মভিত্তিক দেশ ভাগ হয়। পাঞ্জাব ও বাংলা নিজেদের সর্বাধিক ত্যাগ দিয়ে এই বিচ্ছিন্ন- স্বতন্ত্র দেশত্রয় গড়েছে। দেশ ভাগ নিঃসন্দেহে বেদনার; তবে দেশ ভাগেরই ফসল স্বাধীন সার্বভৌম বাঙলাদেশ রাষ্ট্র।

লাহোর প্রস্তাব অনুসারে দুটো পৃথক মুসলিম রাষ্ট্র হওয়ার কথা থাকলেও ১৯৪৭ সালের ৩রা জুনে কেন, কি লোভে ফেডারেশন রাষ্ট্র গঠনে বাঙালি প্রতিনিধিরা সম্মতি দিলেন, বোঝা শক্ত।  ভাষা, আবহাওয়া, অভ্যেস, অবয়ব, খাদ্যাভ্যাস সবকিছুর বৈপরীত্য শুধু ধর্ম  দিয়ে মেলানো যায় না ; এই কথাটি বুঝতে বেশি কাল লাগেনি এই জনপদের মানুষদের।

চিত্র – ৫: দুনিয়া কাঁপানো ভাষা আন্দোলন, ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি

দেশ ভাগের পরেই ভাষা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয় ডক্টর জিয়াউদ্দিনের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে। উর্দু ব্যতীত পশ্চিম পাকিস্থানের কোন ভাষা রাষ্ট্রীক স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্যতা ছিলো না। তাই বলে ৫ কোটি বাঙালির উপর পরভাষা চাপিয়ে দেয়া নৈতিকতা বিরুদ্ধ। এই ঘটনাতেই ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, কবি ফররুখ আহমেদ, কাজী মোতাহের হোসেন কিংবা ডক্টর শহিদুল্লাহ পাকিস্তান রাষ্ট্রের কবর দেখেছিলেন। ১৯৪৮ সালে জিন্নাহ, ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি খাজা নাজিমউদ্দিন “কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা” – এই ধৃষ্টতার বিপরীতে ছাত্র যুবকেরা বিক্ষোভ শুরু করলে পাকিস্তানি স্বৈরাচাররা ১৯৫২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে একমাসের জন্যে ঢাকার সর্বত্র সভা- সমাবেশ নিষিদ্ধ করে। অথচ নাজিমুদ্দিন পূর্ব বাঙলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ১৯৪৮ সালের মার্চে প্রাদেশিক আইনসভায় বাঙলাকে প্রদেশের রাষ্ট্রভাষা ও শিক্ষার বাহনরূপে পাশ করিয়ে নিয়েছিলেন। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদে ১১-৪ ভোটে ঠিক হয় যে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করা হবে না। কিন্তু সলিমুল্লাহ হলের ছাত্রদের অনুঘটনে সাধারণ ছাত্রদের চাপে ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল হয় ; গুলিতে জব্বার (হোটেল বয়), রফিক (রিকশাচালক), বরকত (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র), সালাম, শফিউর সহ আরও নাম না জানা অনেকেই শহীদ হন। ২৬শে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন সমাপ্ত ঘোষিত হয় এবং ১৯৫৬ সালে বাংলা রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃত লাভ করে।

ভাষা আন্দোলন পরবর্তীতে চাকুরিতে প্রবেশাধিকারে রুদ্ধতা, পণ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, সামাজিক বঞ্চনা, রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করে রাখা, সামরিকবাহিনীতে অচ্ছুত করে রাখা ইত্যাদি আন্দোলনে ছড়িয়ে পড়ে। কমিউনিস্টরা বলতে শুরু করেন ‘ইয়ে আজাদি ঝুটা হ্যায়, লাখো ইনসান ভুখা হ্যায়’। গোড়া থেকেই বাঙলায় মুসলিম লীগ জনপ্রিয়তা হারাতে থাকে। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের কাছে খড়কুটোর মতো ভেসে যায় মুসলিম লীগ। এই নির্বাচনে ভাষা আন্দোলন আবেগ এবং সমসাময়িক শোষণের প্রতিফলন ঘটেছিলো, যদিও এই সরকারকে চলতে দেয়নি কেন্দ্র।

চিত্র ৬: যুক্তফ্রন্টের সদস্যগণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (সামনে বাম থেকে দ্বিতীয়), শেরে বাংলা একে ফজলুল হক (সামনে বাম থেকে তৃতীয়) এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দি (সামনে ডান থেকে তৃতীয়) ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের সময়।

প্রথম Constituent Assembly তে বাঙালি ৪৪ জন নিয়ে সংখ্যাধিক্যে থাকার পরেও ভীরু, অযোগ্য নেতৃত্বের কারণে রাজধানী করাচিতে হলো, মন্ত্রীসভায় পাকিস্তানিরা প্রাধান্য পেলো, প্রশাসন ও উচ্চপদস্থ চাকুরীতে বাঙালিদের স্থান হলো না, সৈন্যবাহিনীতে বেলুচ- পাঞ্জাবিরা কর্তৃত্ব পেলো। ব্যবসায়িক ঐতিহ্যহীন বাঙালি সরকার নিয়ন্ত্রিত ব্যবসা বাণিজ্য উর্দুওয়ালাদের কাছে বেচে দেয়। কোরীয় যুদ্ধে বাঙলার পাট চালান দিয়ে প্রচুর মুনাফা অর্জন করলেও এদেশের পাট শিল্পকে ধ্বংস করতে উঠে পরে লেগেছিলো পাকিস্তান সরকার। 

১৯৫৪ সালের অক্টোবরে Constituent Assembly ভেঙে দিয়ে গোলাম মুহম্মদ সমসংখ্যক আসন দুই পাকিস্তানের জন্যে বরাদ্দ করেন এবং SEATO তে যোগ দিয়ে দেশে কমিউনিজম ঠেকানোর ঠিকাদারি আমেরিকা থেকে নিলেন। তাকে সরিয়ে ইস্কান্দার মির্জা প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে গদিতে আসীন হলে ১৯৫৬ সালে সোহরাওয়ার্দী দেশের প্রধানমন্ত্রী হন এবং একই সালে পূর্ববঙ্গে আআওয়ামীলীগ সরকার গঠিত হয়। ১৯৫৭ সালে আইয়ুব খানের সাথে দ্বন্দ্বে সোহরাওয়ার্দী পদত্যাগ করলে ১৯৫৮ সালে খান ইস্কান্দার মির্জকে বিতাড়িত করে দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। ১৯৪৭- ১৯৫৮ সালে এত দ্রুত ক্ষমতার পালাবদল দেশকে সুস্থিরতা প্রদান করেনি, এই রোগ আজও পাকিস্তানের রাজনীতিতে বর্তমান। আইয়ুব জামানায় Power Elite ভিত্তিতে দুষ্কৃতি ও দূর্নীতির প্রসারের সাথে বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি, চাকুরির অনিশ্চয়তায় অবক্ষয়ে ভুগছিলো। এর মধ্যে ‘৬২ সালে শিক্ষা আন্দোলন পুনরায় ছাত্রদের উজ্জীবিত করেছিলো।

ভাসানী- সোহরাওয়ার্দীর মতপার্থক্যের কারণে আওয়ামী লীগ ভেঙে ন্যাপ গঠিত হলে শেখ মুজিবুর রহমান সোহরাওয়ার্দীকে সমর্থন করে আওয়ামী লীগে নিজেকে সুদৃঢ়, পরিশীলিত এবং জাতিরাষ্ট্র বাঙলাদেশর নিমিত্তে এই জনপদের, এই জনগণের যোগ্যতম নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ইতোপূর্বে স্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান/ বাঙলা নাম দেয়া হলেও জনগণের হৃদয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের দেয়া বাংলাদেশ নামটি গেঁথেছিলো। ‘শ্যাখের দেয়া দ্যাশের নাম’ – মুজিব বুঝতেন জনগণ কি চায়। শেখ মুজিব বৃহত্তর রাজনৈতিক দলের নেতার হবার সাথে সাথেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নিজেদের অধিকারের প্রশ্নে সচেষ্ট থেকে ১৯৬৬ সালে ৬ দফা ঘোষণা করেন। এই ঘোষণাতেই স্বাধিকারের সুর সুস্পষ্ট হয়। সেটিই ছিলো বাঙালিদের বাঁচার দাবী।

চিত্র-৭: ১৯৬৬ সালে লাহোরে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা দাবী  প্রত্যাখিত হলে ৬ দফা আন্দোলনের সুত্রপাত

শেখ মুজিব আলোচনার পাশাপাশি যে শক্তি প্রয়োগে স্বাধীন হবার চিন্তা যে করেননি তা নয়, ১৯৬৮ সালের আগড়তলা ষড়যন্ত্র মামলা তার প্রমাণ। সুবক্তা, ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়সমৃদ্ধ নিপীড়িতের নেতা, মুজিবরের রাজনৈতিক গুরু মাওলানা ভাসানী শেখ মুজিবকে মুক্ত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে পরাজয়, আমেরিকান লবি দুর্বল হওয়া,  অর্থনৈতিক দুরবস্থা, বয়সের ভার, ছাত্র- যুব আন্দোলন ইত্যাদি কারণে ‘৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে আইয়ুব শাহী মসনদচ্যুত হলে ইয়াহিয়া দায়িত্ব নিয়ে জনগণের চাপে ‘৭০ সালে সাধারণ নির্বাচন দিলে জনগণকে বোঝা মুজিব নির্বাচনে অংশ নিয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে পাকিস্তানের ক্ষমতায় যাওয়ার শ্রেষ্ঠ দল ও নেতা হিসেবে দাবীদার হয়ে উঠেন। 

চিত্র-৮: জাতির পিতা এবং স্বাধীন বাংলার রুপকর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ, ১৯৭১ সালে।

প্রচুর আলোচনা, ত্যাগের পরেও মাথামোটা জুলফিকার ভুট্টোর গোঁয়ার্তুমিতে সশস্ত্র পন্থায় স্বাধীন রাষ্ট্র গড়ার সুযোগ আসলে ২৪ বছরের শোষণ- বঞ্চনার প্রতিশোধ ১৮ মিনিটের বক্তব্যে ৭ই মার্চ, ১৯৭১ সালে তুলে ধরেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালি, বাঙলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু সমার্থক হয়ে ওঠে এই বক্তৃতায়। ২৫শে মার্চের গণহত্যা, নয় মাসের যুদ্ধ, নানান আন্তর্জাতিক সমীকরণ, শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী ও ভারতের সর্বাত্মক সহযোগিতা, রাশিয়াসহ বিশ্বের প্রতিটি দেশের মুক্তিকামী মানুষের সমর্থনে সকল বিপত্তি ঠেলে আড়াই হাজার বছর পরে এই অঞ্চল স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ রূপে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। পাল আমলের অল্প কিছু কাল ব্যতীত শেখ মুজিবই সেই ভূমিপুত্র যাঁর আহ্বানে এই অঞ্চল প্রথমবারের মতো স্বশাসিত হয়ে চলছে।

. উপসংহার

নয় মাস ত্রাসের পরে দেশ স্বাধীন হলে; স্বজন- সম্ভ্রম হারানোর আহাজারি, বিধ্বংস লোকালয়, অনাহার, ভঙ্গুর অর্থনীতি ইত্যদির পরেও সকলে স্বাধীন হবার আনন্দে অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হৃদয় নিংড়ে অভিবাদন জানিয়ে গ্রহণ করেছিলেন। জনগণের নায়ক নিজ দেশে নিজের মানুষের কাছে ফিরেই দেশ গঠনে মনোনিবেশ করেছিলেন। পরিষদ আহ্বান, ভারতীয় সেনা ফেরানো, বৈদশিক স্বীকৃতি আদায়, সংবিধান প্রণয়নের মতো কাজে  সফল হলেও ; জনকল্যাণে কাজ করায় তেমন সফল হননি (সে অর্থে সময়ও পাননি)। যুদ্ধের সময়ে ইসলামপন্থীরা বাদে প্রতিটি দল আওয়ামীলীগকে সমর্থন করেছিলো। স্বাধীনের পরে জাতীয় সরকার না হওয়ায় আওয়ামী লীগাররা সরকারি প্রশ্রয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করেছে, লুটপাট, জবরদখল ইত্যাদি কাজে ব্যক্তিস্বার্থ প্রয়োগ করেছে।। একইসাথে অতিবিপ্লবীদেরও দায় ছিলো অরাজকতায়।

আওয়ামী লীগ অবশ্যই সমাজতান্ত্রিক ছিলো না। রাশিয়ার প্রভাবে প্রচ্ছন্ন ছাপ হয়তো ছিলো। বাকশালেও রাশিয়ার অনুকরণ অনেক অংশেই পরিলক্ষিত হয়। এর সুবাদে অনেক চাটুকার, সুবিধালোভী সরকারে প্রবেশ করে। বাকশাল পূর্ণাঙ্গরূপে চালুর পূর্বেই দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র, পুঁজিপতিদের নোংরামি ও আওয়ামীলীগে থাকা সুবিধাবাদীদের কারণে জনতার নায়ক নির্মমভাবে সপরিবারে নিহত হন ১৫ আগস্ট, ১৯৭৫।

আওয়ামীলীগের ছদ্মবেশী নেতারা মোশতাকের নেতৃত্বে সরকার গঠন করে। নানা পটভূমিকায় খালেদ মোশাররফ ও জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়। কর্নেল তাহের জনগণের সেনাবাহিনী গঠনের পরিবর্তে মেজর জিয়ার হাতে নেতৃত্ব দিয়ে নিয়ে ফাঁসিতে ঝোলেন। কিছুকাল পরে মেজর জিয়াকেও খুন হতে হয়। জেনারেল এরশাদ ক্ষমতা দখল করেন। এই সময়ে ন্যাপ (মোজাফফর) ও সিপিবি কমিউনিস্টসুলভ দায়িত্ববোধ প্রদর্শনের বিফল হয় এবং মাওলানা ভাসানীর সাথে থাকা অনেক সমাজতন্ত্রী হুজুরের মৃত্যুরপরে বিভিন্ন সামরিক সরকারে উচ্চপদে আসীন হন। কিন্তু এর বাইরেও কমরেড অমল সেন, কমরেড রাশেদ খান মেননের মতো অনেকেই নিজেদের ঝাণ্ডা সমুন্নত রাখেন। উল্লেখ্য, ১৯৯১ সাথে পুনরায় গণতন্ত্রে ফেরার পূর্ব পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলনে সাধারণ ছাত্র- যুব, বিচিত্র শ্রেণি- পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিলো।

চিত্র-৯: স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তি উপলক্ষে জাতীয় সংসদ ভবনের সাজসাজরব, ২৪শে মার্চ ২০২১ সাল।

বাংলাদেশ ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করতে চলেছে। এর মধ্যে দেশটি অনুন্নত থেকে উন্নয়নশীল মধ্যম আয়ের দেশে পদার্পণ করেছে। দুর্ভিক্ষে থাকা মানুষগুলো আজ দুই বেলা খেতে পারছে। কৃষিবিদদের নব নব অবিষ্কারে কৃষি খাত এগিয়ে গিয়েছে। পূর্ব পুরুষদের পেশা ছিলো বলেই হয়তো চামড়া শিল্প, মৎস উৎপাদন, পোশাক শিল্প, সিরামিক শিল্প ইত্যাদিতে দেশ বিশ্বে প্রথম দিকের সারিতেই অবস্থান করছে। যদি ঈশ্বর থাকেন, যদি পুনর্জন্ম থাকে তবে আড়াই হাজার বছর পূর্বের বৃত্তিজীবী চাঁড়াল, মুচি, জেলেরা এভাবেই ফিরে এসে নিজ দেশকে বিশ্বের সাথে পরিচিত করাচ্ছেন।

কিছু পরিসংখ্যান দিয়ে অর্থনৈতিক, সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবার পরিসংখ্যান দেয়া যাক। মাথাপিছু আয় ১৮ মার্কিন ডলার, জিডিপি ৩৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, রপ্তানি আয় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, বৈদেশিক রিজার্ভ ৪৪ বিলিয়ন ডলার। ৯৯ শতাংশ মানুষ বৈদ্যুতিক সুবিধা ভোগ করে,  শিশুমৃত্যু হার হাজারে ২৮ জনে নেমে এসেছে। গড় আয়ু ৭২.৬ বছরে উন্নীত হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বে ৭ম।

দেশ পদ্মাসেতুর মতো বৃহৎ সেতু নিজেদের টাকায় করছে, রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোরেল, সমুদ্র ও সমুদ্রবন্দর নিয়ন্ত্রণ, সুষ্ঠু সামরিকীকরণ, বিশালাকার সেতু ও সড়ক, কর্ণফুলী টানেল, বিনামূল্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিস্তৃতি ইত্যাদির মাধ্যমে নিজের অর্থনৈতিক পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করছে।

ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য বিশ্বে বাংলাদেশের নিজস্ব, স্বকীয়, স্বতন্ত্র রূপ প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে। পুঁজির দ্রুত বিকাশে সমতায় ঘাটতি দেখা যাচ্ছে, গুণগতমানে আরও পরিশীলিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, উন্নত বিশ্বের সাথে চোখে চোখ রাখতে আরও তিন দশকের পরিশ্রমের আবশ্যকতা রয়েছে। তবুও বলতে হয়,

হে ইতিহাস কথা কও

আর নহে নীরবতা

RELATED ARTICLES

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Read

Featured