Homeদক্ষিণ এশিয়াভারতের উপর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিজয়ঃ একটি নৈতিক বিজয়?

ভারতের উপর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিজয়ঃ একটি নৈতিক বিজয়?

১৫ই অক্টবর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) কর্তৃক প্রকাশিত রিপোর্ট সমগ্র ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গন ও মিডিয়ায় ব্যাপক তোলপাড় ফেলে দেয়। রিপোর্টের শিরোনাম ছিলো বাংলাদেশ নাকি ভারতকে এই বছরের শেষেই অতিক্রম করে ফেলবে পার ক্যাপিটা বা মাথাপিছু জিডিপিতে। যেখানে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি ৪ শতাংশ বেড়ে ১,৮৮৮ মার্কিন ডলারে পৌছুবে, সেখানে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি ১০ শতাংশ কমে ১,৮৭৮ মার্কিন ডলারে নেমে আসবে। এটা খুব বড় ধরণের পার্থক্য না। কেননা করোনা মহামারীর প্রকোপ এখনো কাটেনি, বিশ্ব-অর্থনীতি এখনো ঘুরে দাঁড়ায় নি। যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ও ইউরোপিয় ইউনিয়নের মতোন অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশ হিমশিম খাচ্ছে অর্থনীতি চাঙ্গা রাখতে, সেখানে ভারতের ১০ শতাংশ মাথাপিছু জিডিপি হ্রাস পাওয়া তো অভাবনীয় কিছু না। কিন্তু তারপরও ভারতে কেন এটা নিয়ে তোলপাড় হচ্ছে সেটাই কিন্তু আশ্চর্য জনক ব্যাপার।

ভারত আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র, শুধু ভৌগোলিক সীমানা রেখার দিক দিয়ে না বরঞ্চ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ঐতিহাসিক ভাবে। উপমহাদেশের মধ্য বৃহত্তর এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক মানদণ্ডে শক্তিশালী রাষ্ট্র হওয়ায় সে আঞ্চলিক ভাবে প্রতিবেশী প্রতিটি রাষ্ট্রের উপর একচেটিয়া আধিপত্ত প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে।  এটা মোটেও আশ্চর্যজনক নয় যে সে প্রতিবেশি রাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিকভাবে প্রতিটি সাক্ষরিত চুক্তিতে সবচেয়ে বেশি সুবিধা নিয়েছে একচেটিয়া ভাবে, শুধু পাকিস্তান বাদে। আর এই একচেটিয়ে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সাক্ষরের মনোভাবের কারণে বাংলাদেশের চেয়ে বেশি আরো কোন দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা সেটা গবেষণার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে; যেহেতু ভৌগলিক ভাবে ভারত তিন দিক দিয়েই আমাদের ঘিরে রেখেছে।

এই লেখাটি কোন গতানুগতিক “বাংলাদেশ ভারত দ্বারা শোষিত হচ্ছে”, “ভারত বাংলাদেশকে তার দেওয়া কথা রাখেনি” জাতীয় বিষয় নিয়ে নয়। আমাদের স্বাধীনতালগ্ন থেকেই এ নিয়ে অঢেল সাহিত্য রচিত হয়েছে। বরঞ্চ, আমার আলোচ্য বিষয় ভারত এমন কি করেছে যে আমাদের উপর এতো একচেটিয়া প্রভাব খাটিয়েও আমাদের চেয়েও তার মাথাপিছু জিডিপির ১০ শতাংশ হ্রাস ঠেকাতে পারলো না। কেননা, ভারত এখনো পর্যন্ত আমাদের সাথে তিস্তা পানি-বন্টন চুক্তি সাক্ষর করেনি, রোহিঙ্গা সমস্যা নিরসনে আমাদের কোন প্রকার সহায়তা না করে বরং মিয়ানমারের পক্ষ নিয়েছে, দীর্ঘকাল ধরে চলা অসম দ্বিপাক্ষিক ব্যাবসা-বাণিজ্যর সুরাহা না করা আর সর্বপরী, নাগরিক সংশোধন বিলের মতো মুসলিম-বিরোধী বিল উত্থাপন করে ভারতের মুসলমানদের নাগরিকতা বাতিল করার মতো নক্করজনক কাজ বিনা বাধায় করেই চলেছে।

এটা বলার অপেক্ষা রাখেনা যে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুর সু্যোগ্য কণ্যা শেখ হাসিনার  নেত্রিত্বগুণের কল্যাণেই আমরা অভাবনীয় অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়্নে পৌছুতে পেরেছি। তাঁর রাজনৈতিক বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার কারণের আওয়ামী লিগ নেতৃত্বাধিন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এক দশকের বেশি সময়ে ধরে একের পর এক সোনার বাংলা রুপরেখার অর্থনৈতিক ও আবকাঠামোগত “গেম-চেঞ্জিং” সিদ্ধান্ত নিতে ও বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছে। নিজেদের টাকায় বানানো দেশের সর্ববৃহৎ সেতু আমরা ২০২১-২০২২ এর মধ্যেই পেতে যাচ্ছি। রুপপুরে ২৪০০ মেগাওয়াতের দুই ইউনিটের পরমাণুবিক বৈদ্যুতিক চুল্লি ২০২৪ সালের মধ্যেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে। আর আমাদের ঢাকা শহরের মেট্ররেলের কথা না বললেই না। হয়তো স্বাধীনতার ৫০ বর্ষপূর্তিতে এটাও উদ্বোধন হয়ে যাবে, ঢাকা শহরের যানজটের নিরসন করবে অনেকটা। এখানে অবশ্যই উল্লেখ্য যে, মহজোট সরকার যখন ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বারের মতোন ক্ষমতায় আসে, তখন বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি ছিলো ৭৮১ মার্কিন ডলার, যেখানে ভারত ১৩৫৭ মার্কিন ডলারে যোজন যোজন এগিয়েছিলো। কিন্তু মাত্র ১০ বছরের মাথায় আমাদের মাথাপিছু জিডিপি এক হাজেররো বেশি মার্কিন ডলার বেড়ে ১,৮৮৮ ডলারে উপনীত হয়েছে, আমরা এমনকি এখম নিম্ন আয়ের দেশ থেকে উন্নয়শীল রাষ্ট্রের মর্যাদা পাবারও স্বপ্ন দেখছি ২০২৪ সালে যদি সরকার সেই উন্নয়ন ধরে রাখতে সক্ষম হয়। অপরদিকে গত এক দশকে ভারতের মাথাপিছু আয় দুই হাজার মার্কিন ডলার অতিক্রম না করতে পারলেও উলটা ২০২০ সালে করোনা প্রভাবে তা ১০ শতাংশ হ্রাসে ১,৮৭৮ মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে। বাংলাদেশের এই ক্ষুদ্র অর্থনৈতিক ও নৈতিক বিজয়ে বাংলাদেশের মহাজোট সরকারের কৃতিত্ব অবশ্যই আছে, তবে ভারতের রাজনৈতিক অঙনে ব্যাপক পালাবদল ও অদূরদর্ষিতারও ভূয়সী অবদান রয়েছে এক্ষেত্রে।

ভারতের জন্ম ১৫ই আগস্ট ১৯৪৭ সালে। তার জন্মলগ্নে সবাই আশা করেছিলো বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও বিভিন্ন ভাষার মানুষকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ভারতীয় জাতীয়তাবাদ ও মহাত্না গান্ধীর “অহিংস” মতাদর্শের ভিত্তিতেই ভারতের ভিত্তিপ্রস্তুর রচিত হবে। এবং তারই ধারাবাহিকতায় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস পার্টি ঠিকই কিন্তু তা একে একে বাস্তবায়িত করে আসছিলো। ভারতের ৭৩ বছরের অস্তিত্বে কংগ্রেস সরকার একাই ৫৪ বছর যোগ্য নেত্রিত্ব দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যেই কিন্তু ভারত ভূরাজনীতিতে, অর্থনীতিতে, পররাষ্ট্রনীতিতে ও সামরিক শক্তিমত্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটতে শুরু করে। মাঝখানের ১৯৭৬ সালে ও ১৯৯৯ সালে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসলেও কংগ্রেস সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনা করার রুপরেখাকে পরিবর্তন করেনি। কিন্তু ২০১৪ সালের নরেন্দ্র মোদির নেত্রিত্বাধিন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সম্পূর্ণভাবে “অহিংস” মতাদর্শ থেকে বেড়িয়ে এসে বরঞ্চ তিনি “হিন্দুত্ব” মতাদর্শের মতো একটি কট্টরপন্থী মতাদর্শের প্রবর্তক হয়ে গেলো। এই “হিন্দুত্ব” মতাদর্শ গত অর্ধশত বছর ধরে কংগ্রেস সরকারের সকল ভালো কাজকে তো বিফলে পরিণত করলোই, সেই সাথে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে ভারতের মাত্রাতিরিক্ত একচেটিয়া ও ঔধত্যপূর্ণ আচরণ তাকে আরো এক ঘরে করে ফেলেছে। নেপাল এখন পুরোপুরি চীন দ্বারা প্রভাবিত, ভুটানতো মোটামুটি চীনা ঘেষাই আর শ্রীলংকা বেশ কিছুদিন আগে চীনকে ভূকৌশলগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হাম্বানটোটা সমুদ্রবন্দর ৯৯ বছরের জন্য খাজনা দিয়েছে। আর ভারতের চিরশত্রু পাকিস্তানের সাথে তো ঐতিহাসিকভাবেই চীনের গলায় গলায় মিল। এখন বাংলাদেশের ৯৭-৯৮ শতাংশ পণ্যকে বিনা-স্বুল্কারোপ করে চীন তো জানানই দিলো যে সে বাংলাদেশকে নিজের প্রভাবের বলয়ে নিতে বদ্ধ পরিকর। আর এসবের মূল কারণ হলো ভারতের বর্তমান নেতৃত্বাধিন সরকারের রাজনৈতিক ও পররাষ্ট্রনীতির অদূরদর্শীতা এবং ভুল অর্থনৈতিক কৌশলের বাস্তবায়ন।

আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে ভারতের সরকারের উচ্চপদস্থ নেত্রিত্ববৃন্দ ও তাঁদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ভারতীয় মিডিয়ার “হিন্দুত্ব” মতাদর্শের ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে নিজেদের মহত্ত প্রকাশ করার বদ অভ্যাস রয়েছে। একে একে ভারতের মিডিয়া তো বানোয়াট খবর প্রচার করেই যাচ্ছে যে “আমরা চীন ও পাকিস্তানের সাথে অবতীর্ণ নৈতিক যুদ্ধে জয়লাভ করে যাচ্ছি”, “বাংলাদেশের অর্থিনীতি আমাদের জন্য ছেলেখেলা” ইত্যাদি। কিন্তু বলা বাহুল্য তারা কিন্তু একথা কখনোই প্রকাশ করছে না যে ভারতের দুই রাজ্য উত্তর প্রদেশ ও বিহারের জনসংখ্যা সব মিলিয়ে ৩৫ কোটি (ভারতের জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশ) অথচ সেখানকার অর্থনৈতিক অগ্রগতির বেহাল দশা। দেশের এক-চতুর্থাংশ মানুষ নানান অর্থনৈতিক জটিলতায় জর্জরিত কিন্তু ভারতের মিডিয়া তা কখনোই তার দৃষ্টি আকর্ষন করছে না। সর্বপরি, বিজেপি সরকার তো মনে হচ্ছে অর্থনৈতিক অগ্রগতির চেয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকাকেই অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক হলো, নিজের রাজ্যের মানুষ যখন অর্থনৈতিক জটিলতায় জর্জরিত, উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ একে একে ইসলামী নামের এলাকাগুলোকে হিন্দু নামে নামকরণ করছেন কোটি কোটি রুপি খরচ করে। সেই ২০১৮ সালেই তিনি এক হাজার রুপি খরচ করেছেন শুধুমাত্র এলাহাবাদের নাম পরিবর্তন করে প্রয়াগরাই রাখার জন্য। অথচ সেই অধেল অর্থ তিনি রাজ্যের অর্থনীতি চাঙা করতে কাজে লাগাতে পারতেন। এটা তো শুধু একটা নমুনা মাত্র। সরেজমিনে ২০১৮ সালের আইএমএফ রিপোর্টে দেখা যায়, বিজেপি সরকার ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি খরচ করে ফেলেছে শুধুমাত্র মিডিয়ায় নিজের প্রসার-প্রচারণা চালানোর জন্য। ভাবতেই অবাক লাগে সেই পরিমাণ অর্থ ভারতের শিল্প-অর্থনীতিতে বিনিয়োগ করলে ভারতে কোন জায়গায় অবস্থান করতো।

সর্বোপরি, বিজেপি সরকারের উচ্চপদস্থ অগণিত নেত্রীবৃন্দদের দ্বারা বাংলাদেশকে উপহাস করা ও হেয়-প্রতিপন্ন করাকে তো রীতিমতো অভ্যাসে পরিণত করেছেন। দুঃখের হলেও সত্য, যে দেশ আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবের সরাসরি অংশিদার ও সহযোগিতা করার পরো তাদেরই বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সহ আরো অনেক উচ্চপদস্থ নেত্রিত্ব কথায় কথায় মিডিয়ার সামনে বলে বেড়ান যে “আমরা বাংলাদেশকে দখল করবো”, “বাংলাদেশকে নিজেদের রাজ্যে পরিণত করবো”, “বাংলাদেশ আমাদের অলিখিত ৩০তম রাজ্যে” ইত্যাদি ইত্যাদি বুলি আওরান শুধু নিজেদের সামগ্রিক ব্যার্থতা ও দূর্নীতি ঢাকার জন্য। যে জায়গায় দিবালোকের মতো পরিষ্কার বাংলাদেশ ভারতের চেয়েও মাতৃ-মৃত্যুহার হ্রাস, নারী-ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি, লিঙ্গ-সমতায় উন্নতি, গড়-আয়ু বৃদ্ধি ও পরিষ্কার পায়ু-নিষ্কাশন ব্যাবস্থা ইত্যাদি তে চরম উন্নতি করে যোজন যোজন এগিয়ে, সেখানে ভারতের মিডিয়া এখনো ঢালাওভাবে প্রচার করে “আমরা চীন ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নৈতিক বিজয় অর্জন করেছে” ও “বাংলাদেশ আমাদের জন্য কাছে একটি শিশু মাত্র” জাতীয় এমন উপহাসব্যাঞ্জক খবর প্রচার করে পুরানো ঝোলই ঘাঁটছে। এই ধরণের অসুস্থ অখেলোয়ারসুলভ আচরণের জন্যই কিন্তু নেপাল আজ পুরোপুরি চীনের দিকে ভীরে গিয়েছে, ভুটান তো ২০১৭ সালের দোকলাম-বিরোধের পর রীতিমতো চীনের ইশারা ছাড়া এক-কদমও এগুবে না আর শ্রীলংকা তো ২০১৮ সালেই চীনকে ৯৯ বছরের জন্য হাম্বান্টোটা গভীর সমুদ্র-বন্দর ইজারা দিয়েছে (এটা চীনা ঋণ-ফাদেঁর পরিণতি হলেও তা আদতে প্রত্যক্ষভাবে ভারতের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক ব্যার্থতা)। এখানে লক্ষ্যণীয় যে ভারতের দ্বারা নানাভাবে প্রতারিত, অপমানিত ও নানান সময় অখেলোয়াড়সুলভ আচরণের শিকার হয়েও বাংলাদেশ কিন্তু এখনো ভারতের দিকেই বেশি ঝুঁকে আছে। এখন দেখার বিষয় ভারত বাংলাদেশের সাথে সমতার-ভিত্তিতে সম্পর্কোন্নয়নে যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহণ করে কিনা বিজেপি সরকারের আমলে, যখন একাধারে চিরশত্রু পাকিস্তান, চীন ও চীনের মিত্রদেশ নেপাল, ভুটান ও শ্রীলংকা ভূরাজনৈতিকভাবে ভারতেকে একঘরে করে ফেলেছে।

২০২১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫০ বর্ষপূর্তি উৎযাপন করবে। সেই ১৯৭১ সালের নয়মাস-ব্যাপি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর আমরা স্বাধীনতা অর্জন করি। কিন্তু ৭০ ও ৮০র দশকে নানা প্রকার রাজনৈতিক হত্যাযজ্ঞ ও অস্থিরতার পরিনামে শ্বৈরশাসন প্রতিস্থার কারণে তো তৎকালিন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঙ্গার তো রীতিমতো বাংলাদেশকে “তলাবিহীন ঝুড়ি” বলে ধীক্কার দিয়েছিলেন। অথচ এখন একজন বাংলাদেশী হিসবে বুকটাই গর্বে ভরে যায় যে আজকের সেই “তলাবিহীন ঝুরি” বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তর অর্থনীতির দেশ ভারতকে মাথাপিছু জিডিপিতে পেছনে ফেলতে যাচ্ছে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন “সোনার বাংলা” বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে গিয়েছে। যাদের থেকে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি, আমাদের অভাবনীয় অর্থনৈতিক উন্নতি দেখে সেই পাকিস্তানের সাংসদরাই তাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে বলেন “খুদাকো ওয়াস্তে হামসে বাংলাদেশ বানাদো” (খোদার ওয়াস্তে আমাদের বাংলাদেশ বানিয়ে দাও)। এটা নিশ্চিতভাবে পাকিস্তানের উপরও আমাদের নৈতিক বিজয়। সেই সাথে পার্চেসিং পাওয়ার প্যারিটি (PPP) বা ক্রয়ক্ষমতা সমতায় আমাদের জিডিপি এখন ৫,৪০০ মার্কিন ডলার, যেখানে ভারতের ক্রয়ক্ষমতায় সমতায় জিডিপি এখন ৬,২০০ মার্কিন ডলার। করোনার প্রকোপ চলতে থাকলে আর ভারতের বিজেপি সরকারের কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং মুসলিম-বিরোধী মানসিকতার পরিবর্তন না করতে পারলে হয়তো খুব অল্প সময়ই আমরা ভারতকে এই ক্রয়ক্ষমতা সমতার জিডিপিতেও ছাড়িয়ে যাবো। তখন এটা আরো বড় অর্থনৈতিক ও সর্বপরি নৈতিক বিজয় হবে আমাদের জন্য।

RELATED ARTICLES

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Read

Featured