Homeআন্তর্জাতিকমেকি আদর্শের নেকাবে তালেবানের জঙ্গিবাদী স্বরূপ

মেকি আদর্শের নেকাবে তালেবানের জঙ্গিবাদী স্বরূপ

উপক্রম

তালেবানকে অনেকে জঙ্গি সংগঠন মনে করেন আবার অনেকে তালোবানকে মুক্তিযুদ্ধা হিসেবেও গণ্য করেন।আসলে তালেবান কারা?তাদের উৎপত্তি কিভাবে হলো?তাদের আদর্শিক ব্যাকগ্রাউন্ড কী? এসব নিয়ে ধারণা না থাকায়,আমরা যে যার মতো একটি উপসংহার টেনে নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভোগি! আজকের এই লেখায় তালেবানদের পুরো ইতিহাস তুলে ধরার চেষ্টা করলাম।আশা করি মিস-কনসেপশনগুলো দূর হয়ে যাবে। তালেবান আরবি শব্দ যার অর্থ হলো ছাত্র। এই ছাত্র শব্দটি দ্বারা সাধারণত পুরুষ মাদ্রাসাগামী ছাত্রদের বুঝায়।

আসলে তালেবানরা আমাদের কওমী মাদ্রাসার ছাত্রদের মতই ধর্মীয় লাইনে পড়াশোনা করতো। তাই তালেবান বলতে আমরা সেখানকার মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত ছাত্রদেরই বুঝব। তালেবানদের ইতিহাসকে দুটো ভাগে ভাগ করা যায়। একটি আফগানিস্তানের স্বাধীনতা যুদ্ধ। তখন তাদের আফগান মোজাহিদিন বলা হতো।দ্বিতীয়টি হলো আফগানিস্তানে ক্ষমতা পাওয়ার পরের ধাপ। তখন তারা একের পর এক বিতর্কিত আইন প্রনয়ন করতে থাকে। তালেবানরা বিতর্কিত,মূলত তাদের ক্ষমতায় আসার পরের কাজকর্মের কারণে।চলুন বিষয়টি বিস্তারিত জানা যাক।

আফগানিস্তানে সোভিয়েত আক্রমণের পূর্বাভাস  

১৯১৭ সালে বলশেভিক বিপ্লবের মাধ্যমে রাশিয়ায় জার শাসনের অবসান ঘটে এবং লেনিনের হাত ধরে রাশিয়ায় সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।লেলিনের সময়কালে রাশিয়া পনেরোটি সোভিয়েতে বিভক্ত ছিলো। যারা স্বাধীনভাবে গণতান্ত্রিক উপায়ে সরকারের বিভিন্ন পলিসিকে পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখতো।কিন্তু লেনিনের পর সোভিয়েত ইউনিয়নের ক্ষমতা চলে যায় জোসেফ স্টালিনের হাতে।তিনি পনেরোটি সোভিয়েতের ক্ষমতা হ্রাস করে, একটি সুপ্রিম সোভিয়েত প্রতিষ্ঠা করে, লেনিনের আদর্শ থেকে সরে গিয়ে, কর্তৃত্ববাদী নীতির বাস্তবায়ন শুরু করেন।তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের পুরো ক্ষমতা নিজের হাতে নিয়ে নেন। এরপর এগ্রেসিভলি বিভিন্ন নীতির বাস্তবায়ন শুরু করেন।

এসময় সোভিয়েত ইউনিয়ন ধীরে ধীরে সুপার পাওয়ারে পরিণত হওয়া শুরু করে। নাৎসিরা রেড আর্মির কাছে নাকানিচুবানি খেয়ে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পরপরই আরেকটি নতুন অঘোষিত যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়।যাকে আমরা স্নায়ুযুদ্ধ হিসেবে জানি। স্নায়ুযুদ্ধ ছিলো মূলত আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যাকার ক্ষমতার দ্বন্দ্ব বা ক্ষমতার লড়াই। ফলে তখন থেকে আমেরিকা বনাম সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে রক্তারক্তির সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়। ১৯৪৫-১৯৯০ পর্যন্ত আমাদের পৃথিবী দুই মেরুতে বিভক্ত হয়ে যায়।যাকে অনেকে বাইপোলার পৃথিবীও বলে থাকেন। ক্যাপিটালিস্ট ব্লকের নেতৃত্বে ছিলো আমেরিকা এবং সোস্যালিস্ট ব্লকের নেতৃত্বে ছিলো সোভিয়েত ইউনিয়ন। অর্থাৎ,পৃথিবী তখন দুটো গ্যাংয়ে বিভক্ত ছিলো।

সোভিয়েত ইউনিয়ন যখন পৃথিবীর অন্যতম সুপার পাওয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, ঠিক তখনি আফগানিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি আফগানিস্তানে কমিউনিস্ট শাসনের ঘোষণা দেয়। তার ফলে সাধারণ আফগানিরা ক্ষেপে যায়।ফলে গৃহযুদ্ধের মত পরিস্থিতি তৈরি হয়। এমতাবস্থায় নিজেদের সমর্থক আফগান কমিউনিস্ট পার্টিকে বিপদ থেকে উদ্ধার করার জন্য সোভিয়েত ইউনিয়নের রেড আর্মি আফগানিস্তানে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয়। রেড আর্মির এই মুভ দেখে,আমেরিকা আর পাকিস্তান ভয় পেয়ে যায়। পাকিস্তানের ভয় পাওয়ার যুক্তিযুক্ত কারণ ছিলো। আমেরিকার ভয় পাওয়ার কারণ ছিলো বিশ্বব্যাপী হেজেমনিক স্ট্যাটাস হারিয়ে ফেলা।

মোজাহীদিনদের উত্থান

সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগানিস্তানকে দখলে নিতে পারলেই, তাদের নেক্সট টার্গেট হতো পাকিস্তান! বিশেষ করে বেলুচিস্তান প্রদেশের গোয়াদর বন্দর দখল মানে পুরো ভারত মহাসাগরের কন্ট্রোল সোভিয়েত ইউনিয়নের হাতে চলে যাওয়া। ফলে তখন সোভিয়েত ইউনিয়ন পৃথিবীর নাম্বার ওয়ান সুপার পাওয়ারে পরিণত হয়ে যেত। যার ফলে পাকিস্তান নিজের স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলতো এবং আমেরিকা একটি অকার্যকর সুপার পাওয়ার হিসেবে গণ্য হতো। যা আমেরিকার জন্য এক লজ্জাজনক অধ্যায়ের সৃষ্টি করতো।

এই অপমান থেকে বাঁচার জন্য আমেরিকা তার সর্বশক্তি নিয়োগ করে সোভিয়েত ইউনিয়নে বিরুদ্ধে ছায়া যুদ্ধের সূচনা করে। তারা তখন সাধারণ মাদ্রাসাগামী আফগান যুবকদের সংগঠিত করে ট্রেইনিং,ফান্ডিং আর কূটনৈতিক সমর্থন দিতে থাকে।আমেরিকার সাথে তখন পাকিস্তান কাঁধে কাধ মিলিয়ে সাধারণ মাদ্রাসাগামী ছাত্রগুলোকে সবধরনের সাহায্য সহযোগিতা করতে থাকে। এক্ষেত্রে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা ISI এবং আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থা CIA একইসাথে হাতে হাত রেখে আফগান মোজাহীদিন বাহিনী গঠণ করে।মোজাহিদিনরা মূলত স্বাধীনতার জন্যই লড়াই করেছে। স্বাধীনতা টিকে যাওয়ার পর তাদের বেশিরভাগ যুদ্ধাই অস্ত্র ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে চলে গেছিলো।তালেবান মূলত পাকিস্তানের তৈরি,পাকিস্তানের প্রক্সি যুদ্ধা যারা আফগানিস্তানে পাকিস্তানের এজেন্ডা বাস্তবায়নের কাজ করে।

এই মোজাহীদিন বাহীনির বেশিরভাগ সদস্যই মাদ্রাসার ছাত্র ছিলো। এরা আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের বিভিন্ন মাদ্রাসায় পড়াশোনা করতো। তাদেরকে উগ্র ওয়াহাবিজম দ্বারা মগজ ধোলাই করা হয়,সাথে সাথে তাদেরকে ট্রেইনিং আর আধুনিক অস্ত্রস্বস্ত্র দেয়া হয়। ফলে সোভিয়েত ইউনিয়নের রেড আর্মির বিরুদ্ধে তারা গেরিলা যুদ্ধ শুরু করে। পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে ইফেক্টিভ যুদ্ধ হলো গেরিলা যুদ্ধ।

গেরিলা যুদ্ধের নতুন মাত্রা 

শত্রু বেশি শক্তিশালী হলে অপেক্ষাকৃত দুর্বল পক্ষ গেরিলা যুদ্ধের নীতি অনুসরণ করে থাকে। যেমন ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ,আমেরিকার বিরুদ্ধে ভিয়েতনামিজদের যুদ্ধও গেরিলা যুদ্ধ ছিলো। গেরিলা যুদ্ধের মূল নীতি হলো হিট এন্ড রান। মানে শত্রুকে হুট করে পিছন থেকে আক্রমণ করেই সটকে পরা। আফগানিস্তান যেহেতু পাহাড়ি এলাকা,তাই তালেবানরা সহজেই সোভিয়েত আর্মির বিরুদ্ধে একটানা গেরিলা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পেরেছিলো।

গেরিলা যুদ্ধের একটি ইতিবাচক দিক হলো এর মাধ্যমে মাসের পর মাস বা বছরের পর বছর একটানা লড়াই চালিয়ে যাওয়া যায়। এরফলে আক্রমণকারী দেশকে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে জড়িয়ে পরতে হয়। দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধে জড়িয়ে পরাটা যেকোনো দেশের জন্যই খুবই ব্যয়বহুল।এতে প্রচুর রিসোর্সেস নষ্ট হয়। মানুষ মারা যায়। সৈনিকদের মনোবল ভেঙে যায়।

আর এই কারণেই দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে যায়। এই অসমাপ্ত যুদ্ধে জয়লাভ করতে না পারার কারণে পৃথিবীব্যাপী সোভিয়েত ইউনিয়নের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। ফলে রেড আর্মির মনোবল ভেঙে যায়।আর অন্যদিকে আমেরিকার চক্রান্তে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভিতরেই বিদ্রোহ মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। এরকারনেই প্রচন্ড জন-অসন্তোষের জেরেই ১৯৯০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘটে।

একবিংশ শতাব্দী এবং ওয়ার অন টেরর

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের কারণেই পাকিস্তানের স্বাধীনতা অক্ষুন্ন থাকে আর আফগান মোজাহীদিনরা আফগানিস্তানের ক্ষমতায় চলে আসে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মাধ্যমে আমেরিকার সবচেয়ে বড় পথের কাটা মাঠ থেকে আউট হয়ে যায়। ফলে আফগানিস্তান নিয়ে আমেরিকার প্রায়োরিটি বদলে যায়।

আমেরিকা তখন ওয়াহাবি আদর্শ দ্বারা অনুপ্রাণিত এবং সিআইয়ের উচ্চ ট্রেইনিং দেয়া তালেবানদের ব্যাপারে উদাসীনতা প্রদর্শন করে নিজেদের কাজে মনোযোগ দেয়। এরমধ্যে আফগানিস্তানে তালেবানরা ক্ষমতায় এসে উগ্র ওয়াহাবি আইন কানুন চালু করে। বামিয়ানের বৌদ্ধ মূর্তি বম্ব মেরে উড়িয়ে দেয়।নারী শিক্ষা নিষিদ্ধ করে দেয়।পুরুষদের কঠোরভাবে শরিয়া আইন মানতে বাধ্য করায়। এসব নিয়ে আমেরিকার তেমন মাথা ব্যথা ছিলো না। তারা মাঝেমধ্যে তালেবানী শাসনের বিরুদ্ধে কিছু প্রেস রিলিস করতো,,এই যা। কিন্তু সমস্যা বাঁধে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে আমেরিকার টুইন টাওয়ারে বোমা হামলার পিছনে মূল হোতা হিসেবে আল কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদের নাম সামনে চলে আসলে। যিনি সৌদি নাগরিক ছিলেন তবে তখন তিনি তালেবান শাসিত আফগানিস্তানে জিহাদি কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত ছিলেন।

CIA-লাদেনের অবস্থান শনাক্ত করার পর তালেবান সরকারকে বিন লাদেনকে তাদের হাতে তুলে দিতে বলে। কিন্তু মুসলিম মুসলিম ভাই ভাই-এই নীতিতে বিশ্বাসী তালেবান সরকার আমেরিকার হাতে লাদেনকে তুলে দিবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়।তখন আমেরিকা তালেবানের উপর ক্ষেপে গিয়ে War on Terror এর ঘোষণা দেয়। ওয়ার অন টেরর এর মাধ্যমে ৫০টি দেশ একযুগে সোমালিয়া,ইরাক এবং আফগানিস্তানের উপর হামলা করে।ফলে কিছুদিনের মধ্যেই কাবুল থেকে তালেবানীদের বিদেয় ঘটে। বিন লাদেন তখন লুকিয়ে পাকিস্তানে চলে যান। এরপর প্রায় একদশক তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

লাদেনকে বাচাতে গিয়ে তালেবানরা নিজেরাই আফগানিস্তানে ক্ষমতা হারিয়ে আবার দীর্ঘমেয়াদী গেরিলা যুদ্ধে জড়িয়ে পরে। আর তালেবানদের তখন একনিষ্ঠভাবে পাকিস্তান আর্মি সাপোর্ট করতে থাকে। পাকিস্তান একদিকে আমেরিকার কাছ থেকে টাকা খেতে থাকে অন্যদিকে তালেবানদের সব ধরনের সাহায্য সহযোগিতা করতে থাকে।তাই তালেবানের জয় মানে পাকিস্তানের জয়। পাকিস্তান আর্মি ছাড়া তালেবানের এক মিনিটও টিকে থাকার সামর্থ নেই।তালেবান নেতাদের বউ বাচ্চাদের নিরাপত্তা পাকিস্তান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। তালেবানের ট্রেইনিং আর সাপ্লাই পাকিস্তান আর্মির কন্ট্রোলে। তালেবানরা হলো পাকিস্তান আর্মির জন্য এক Bargaining Product! অর্থাৎ,তালেবান ইস্যুকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান সবসময় নিজের পকেট ভারী করেছে। এই কারণেই সাধারণ শান্তিপ্রিয় আফগান জনগণ পাকিস্তানকে মনেপ্রাণে ঘৃণা করে। যদি বিশ্বাস না হয় তাহলে আফগান সাংবাদিকদের ইন্টারভিউ দেখতে পারেন।

আফগানিস্তানের অশান্তি পাকিস্তানের জন্য বড় একটি সুযোগ ওপেন করে দেয়। পাকিস্তান আমেরিকার বন্ধু সাজার ভাণ করে কোটি কোটি ডলার নিজেদের পকেটে ভরে নিয়েছে। আমেরিকার বন্ধু হয়ে,আমেরিকা থেকে উন্নতমানের অস্ত্রস্বস্ত্র মজুদ করতে থাকে। তবে আমেরিকা খুব সহজেই পাকিস্তানের এই বেশ্যানীতি বুঝে যায়। বেশ্যানীতি এই কারণেই বললাম,কারণ পাকিস্তান একইসাথে তালেবানদের সহযোগিতা করছে আবার টাকার জন্য আমেরিকানদেরকেও তালেবানের উপর হামলা করার সুযোগ করে দিয়েছে। অর্থাৎ,পাকিস্তান এক্ষেত্রে দুমুখো নীতি অনুসরণ করেছে বা করতো। পাকিস্তানের দুমুখো নীতি বুঝে যাওয়ার ফলে,তখন থেকেই আমেরিকার সাথে পাকিস্তানের সম্পর্ক নষ্ট হতে থাকে।লাদেনের অবস্থান পাকিস্তানে সনাক্ত হওয়ার পর পাকিস্তান আমেরিকা শত্রু দেশে পরিণত হয়ে যায়। এরফলে আমেরিকা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একের পর এক কঠোর নীতি অনুসরণ করতে বাধ্য হয়।

বর্তমানে জঙ্গিবাদে মদদ দেয়ার কারণে পাকিস্তান FATF এর গ্রে লিস্টে আছে। আগামীতে ব্ল্যাক লিস্টে চলে যাওয়ার সম্ভাবনাও আছে। যদি পাকিস্তান FATF এর ব্ল্যাকলিস্টে যায়,তাহলে পাকিস্তানের পরিণতি উত্তর কোরিয়ার মতই হবে।আন্তর্জাতিক লেভেলে চীন ছাড়া আর কেউ পাকিস্তানের মুখে পানি দিবে না। FATF এর গ্রে লিস্টে থাকার কারণে পাকিস্তান প্রতিবছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। যদি ব্ল্যাকলিস্টে যায়,তাহলে পাকিস্তানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে যাবে। কারণ পাকিস্তানের কাছে ইরানের মত খনিজ সম্পদও নেই যা তারা ব্ল্যাক মার্কেটে বিক্রি করবে। যুদ্ধে Underage বাচ্চাদের ব্যবহার করার কারণে পাকিস্তান আমেরিকার Restricted List এ ঢুকেছে।চীনের কোলে পুরোপুরি বসে যাওয়া পাকিস্তানের অর্থনীতি, আগামীতে পুরোপুরি চীন নির্ভর হয়ে যাবে।

তালেবান জঙ্গি কিনা?

কোনো দল বা ব্যক্তি যদি কোনো মতাদর্শ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে সাধারণ নিরীহ জনগণকে হত্যার মাধ্যমে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চায় তাহলে সে দল বা ব্যক্তিকে জঙ্গি ক্যাটাগরিতে ফেলা যাবে। তালেবান উগ্র সালাফিজম দ্বারা অনুপ্রাণিত। এই সালাফিজম আল কায়েদা, বোকো হারাম, আইসিস (ISIS) এর আদর্শিক ব্যাকগ্রাউন্ড। এই সংগঠনগুলো সুইসাইড বম্বিং, কিডন্যাপিং, মাস কিলিং টেকনিক অনুসরণ করে বা করেছে।তালেবানও সাধারণ আফগান জনগণের উপর বোমা হামলা করেছে। কিছুদিন আগেই তারা ৮৫ জন আফগান নিরীহ স্কুল ছাত্রীদেরকে বোমা হামলা করে হত্যা করেছে। তারা প্রায়ই সুইসাইড বম্বিং করায়, যার কারণে সাধারণ আফগান মুসলিমরাই বেশি মারা পরছেন। এখন আপনি যদি এগুলোকে জঙ্গি কার্যক্রম না বলেন তাহলে আপনার বুদ্ধিবিকৃতি ঘটেছে বা আপনি নিজেই তালেবানের মত উগ্র সালাফিজম দ্বারা অনুপ্রাণিত।

পৃথিবীর কোনো সভ্য দেশ নারী শিক্ষাকে নিষিদ্ধ করেনি বা কখনো করবেও না। আপনি যদি বাংলাদেশের টপ ভার্সিটিতে পড়াশোনা করেও সাধারণ আফগান নারীদের শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা তালেবানদের বাহবা দেন তাহলে আমাদের আর কিছুই করার নেই। আমরা চাই আফগানিস্তানে শান্তি ফিরে আসুক।আফগান মেয়েরা পড়াশোনার সুযোগ পাক।তালেবানরা যদি আবার নারীশিক্ষাকে নিষিদ্ধ করে দেয় তাহলে ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবে না। আর বাংলাদেশী তরুণ তরুণী হিসেবে আপনি যদি তাদের এই অন্যায় কাজকে সমর্থন করেন তাহলে ইতিহাস আপনাকেও ক্ষমা করবে না। কারণ ইউরোপীয় ধার্মিক সমাজ বিজ্ঞান বা প্রগতির পথে পদে পদে বাঁধা দিলেও প্রগতিকে আটকাতে পারেনি।

মানুষের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তারা কঠোর আইন কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে সেটার বিরোধিতা শুরু করে দেয়। এরজন্য সময় লাগে,,সেটা ৫০ থেকে একশত বছর বা ৫০০ বছরও হতে পারে। পরিবর্তন আসবেই। এ মহাবিশ্বের একটি ধ্রুব সত্য হলো সময়ের সাথে সাথে সবকিছুরই পরিবর্তন ঘটে। সেক্ষেত্রে আফগানিস্তানেও পরিবর্তন আসবে, তবে সময় লাগবে। সৌদি পরিবর্তিত হচ্ছে না? অবশ্যই হচ্ছে।

একজন বাংলাদেশী মেয়ে হিসেবে, নিজে নারী স্বাধীনতার সবটুকু ভোগ করে আফগান মেয়েদের কষ্ট বুঝতে না পারলে, আপনি নিজেও মানুষ হিসেবে ব্যর্থ এবং চরম হিপোক্রেট! নিজেকে একবার আফগান মেয়েদের জায়গায় কল্পনা করুন। আপনি স্কুলে যেতে পারবেন না। পছন্দমত ছেলের সাথে বিয়ে করতে পারবেন না। প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার আগেই বৃদ্ধ লোকের কাছে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে, জঙ্গি টাইপের উগ্র হুজুরের তিন বা চার নাম্বার বউ হয়ে যাচ্ছেন কিন্তু এক্ষেত্রে প্রতিবাদও করতে পারছে না। আপনার শিক্ষার অধিকার কেড়ে নিয়ে জাস্ট বাচ্চা উৎপাদনের ম্যাশিনে পরিণত করা হচ্ছে। পছন্দমত জামা পরতে পারবেন না,,,,ঘর থেকে বের হতে অনুমতি লাগবে,,,,,পুরুষ সদস্যের ইচ্ছের বাইরে আপনার স্বাধীন স্বত্ত্বা বলতে কিছুই নেই,,,,একবার সেটা ভেবে দেখুন তারপর না হয় তালেবানদের মুক্তিযুদ্ধা বলুন। মুক্তিযুদ্ধারা মানুষের মুক্তির জন্য লড়াই করে,স্বাধীনতার জন্য লড়াই করে।

তালেবানরা উল্টো স্বাধীনতা কেড়ে নিচ্ছে,,এটা কোন ধরনের মুক্তিযুদ্ধ? তারা কোন ধরনের মুক্তিযুদ্ধা?আপনার বিবেকের কাছে প্রশ্নটা রেখে গেলাম।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Read

Featured