Homeআন্তর্জাতিকরাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: ভারত কেন রাশিয়ার পাশে?

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: ভারত কেন রাশিয়ার পাশে?

ভূমিকা

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু করার পর থেকেই ভারত সরকার এবং জনগণের বৃহত্তর একটি অংশ দৃঢ়ভাবেই পুতিনের পক্ষে সমর্থন দিয়ে আসছেন। ভারতীয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে “আমি পুতিনের পক্ষে “(#istandwithputin) “আমি রাশিয়ার পক্ষে” (#istandwithrussia) ইত্যাদি হ্যাসট্যাগ গুলো খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিন্দা প্রস্তাবে ভারতের ভোট দান থেকে বিরত থাকা ভারতের সাথে রাশিয়ার সম্পর্ক ঝুঁকিতে না ফেলার আরেকটি নির্দেশক।

ইউক্রেন পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থান খুবই আশ্চর্যজনক ও অস্বাভাবিক নয়। ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার পর থেকে মস্কো এবং নয়াদিল্লির মাঝে স্থাপিত হয়েছে উচ্চ স্তরের রাজনৈতিক এবং কৌশলগত বিশ্বস্ততার কূটনৈতিক সম্পর্ক। সেই সময় থেকে রাশিয়া এবং ভারত আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে একই ধরনের অবস্থান নিয়ে আসছে এবং একে অন্যকে সমর্থন করেছে।

রাশিয়া ও ভারত সম্পর্ক: যা গড়ে উঠেছে পারস্পরিক বিশ্বস্ততার উপর ভিত্তি করে

এশিয়ায় আমেরিকা এবং চীনা আধিপত্যকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় রাখার জন্য মস্কো শুরু থেকেই ভারতের সাথে একটি নিবিড় সম্পর্ক বজায় রাখতে চেয়েছে। এবং ভারত সব সময় আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে রাশিয়ার মতো একটি বড় শক্তির সমর্থনের সুবিধা ভোগ করেছে।

১৯৬১ সালে যখন ভারত গোয়াতে পর্তুগিজদের বিরুদ্ধে তার সেনাবাহিনী ব্যবহার করে দামান ও দিও অঞ্চল নিজেদের সীমানা ভুক্ত করে নেয় তখন যুক্তরাষ্ট্র,যুক্তরাজ্য,ফ্রান্স এবং তুরস্ক অতি দ্রুত ভারতীয় সেনাবাহিনীকে এই অঞ্চল ছেড়ে যেতে জাতিসংঘে একটি নিন্দাপ্রস্তাব উত্থাপন করে। তখন সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন সেই নিন্দা প্রস্তাবের বিরোধিতা করে।

১৯৭১ সালে ভারত এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন ঐতিহাসিক “শান্তি, মৈত্রী ও সহযোগিতা” চুক্তি স্বাক্ষর করে। আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তিটি ছিল দক্ষিণ এশিয়ায় তৎকালীন সুপার পাওয়ার রাশিয়ার প্রাধান্য বৃদ্ধি করার মোক্ষম হাতিয়ার ।

কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের প্রতি সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং পরবর্তীতে রাশিয়ার সমর্থন একই সাথে নির্মম এবং রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৫৫  সালে সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভ কাশ্মীরের উপর ভারতের সার্বভৌমত্বের ঘোষণা করে বলেন, ” আমরা এত কাছাকাছি আছি যে, যদি তোমরা পর্বতের চূড়া থেকে আমাদের আহ্বান করো তাহলেও আমরা তোমাদের পাশে এসে উপস্থিত হবো”। তখন থেকে মস্কো কাশ্মীরে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ এর বিরোধিতা করে আসছে।

সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৫৭,৬২,৭২ সালে কাশ্মীরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ বিষয়ক জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে ভেটো দেয়, এবং কাশ্মীর ইস্যুটি ভারত পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক বিষয় উল্লেখ করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে বলে।  ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের‌ ক্ষেত্রও সোভিয়েত ইউনিয়ন একই ধরনের অবস্থান বজায় রাখে। সোভিয়েত ইউনিয়নের এমন অবস্থান ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে সেই থেকে প্রশংসিত হয়ে আসছে।

১৯৭৮ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপাই ( যিনি ডানপন্থী ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য এবং ১৯৯৮-২০০৪ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন) সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে তার আদর্শিক ভিন্নতা একপাশে রেখে সোভিয়েত প্রতিনিধি দলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে বলেন; “আমাদের দেশ একমাত্র সোভিয়েত ইউনিয়নকেই  বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে পেয়েছে”। পরবর্তীতে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পরও রাশিয়া-ভারতের সাথে একটি বিশেষ সম্পর্ক বজায় ছিল।

২০০০ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপাই “কৌশলগত অংশীদারিত্ব ঘোষণা” পত্রে স্বাক্ষর করেন। ২০১০ সালে উক্ত চুক্তির এক দশক পর উভয় দেশ ” বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব” চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। ‌ এই বিশেষ অংশীদারিত্বের চুক্তিতে রাশিয়া পুনরায় কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের পক্ষাবলম্বন করে। ২০১৯ সালে যখন ভারত তার সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে যা জাম্মু ও কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছিল, তখন মোদি সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে বিভিন্ন সমালোচনার মুখোমুখি হলেও রাশিয়া পুনরায় এটিকে ভারতের “অভ্যন্তরীণ বিষয়” হিসেবে আখ্যায়িত করে।

২০২০ সালের জানুয়ারিতে চীনের নেতৃত্বে কাশ্মীরে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আবেদন করা হলে, জাতিসংঘে রাশিয়ার প্রথম স্থায়ী প্রতিনিধি দিমিত্রি পলিয়ানস্কি এক টুইট বার্তায় বলেন, ” জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ কাশ্মীর ইস্যুটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। রাশিয়া দৃঢ়ভাবে ভারত- পাকিস্তান সম্পর্কের স্বাভাবিকরণ চায়। আমরা বিশ্বাস করি দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে দু’পক্ষের ভিন্নতা নিরসন হবে”।

একই সময়ে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকগণ কাশ্মীর পরিদর্শনের আগ্রহ প্রকাশ করলে ভারতে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত নিকোলায় কোদাশেভ তা প্রত্যাখ্যান করে বলেন,
“আমি মনে করি না কাশ্মীর পরিদর্শনের কোন কারণ আছে। এটা ভারতের সাংবিধানিক বিষয় এতে রাশিয়ার কোন ভূমিকা নেই। যারা কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন, যারা ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে সন্দিহান তারাই কাশ্মীর পরিদর্শন করতে পারেন। আমাদের কোনো সন্দেহ নেই তাই আমরা পরিদর্শনে যাব না”।

যদিও নয়াদিল্লির জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য নয় তবুও স্বাধীনতার পর সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে কৌশলগত অংশীদারিত্বে (strategic partnership) যাওয়ার পর থেকে ভারত আন্তর্জাতিক সকল ক্ষেত্রে মস্কোর প্রতি তার সমর্থন দেখিয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ ১৯৫৬ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন কর্তৃক হাঙ্গেরির বিপ্লবকে বলপূর্বক দমনের বিষয়টি আনা যায়। যেখানে ভারত প্রকাশ্যে সোভিয়েত ইউনিয়নের নিন্দা করা থেকে বিরত থাকে যদিও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ব্যক্তিগতভাবে মস্কোর দমন-পীড়নকে নিন্দা করেছিলেন।

এক দশকের কিছু সময় পর ১৯৬৮ সালে যখন সোভিয়েত ইউনিয়নের সেনাবাহিনী প্যারাগুয়ে বসন্তকে নির্মূল করতে চেকোস্লাভিয়া আক্রমণ করে তখনকার ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ভারতীয় পার্লামেন্টের লোকসভায় নিন্দামূলক বক্তব্য দিলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মস্কোর সমালোচনা থেকে বিরত থাকেন।

যখন সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৭৯ সালে আফগানিস্থানে সোভিয়েতপন্থী সরকারকে সাহায্য করার জন্য প্রবেশ করে তখন অনেকের মত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী চরণ সিং এই আক্রমণের তীব্র বিরোধিতা করেন। তবুও বহুবছর ধরে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটোর উপকারভোগী ভারত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাবে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে। শুধু তাই নয় ভারত ছিল একমাত্র জোট নিরপেক্ষ রাষ্ট্র যারা তখন সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিল।

জাতিসংঘে ভারতের মস্কোপন্থী ভোট দেওয়ার এই রীতি পরবর্তীতেও বজায় থাকে। ২০০০ সালে ভারত জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের এক প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয় যেখানে রাশিয়ার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় চেচেন যুদ্ধে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বল প্রয়োগের অভিযোগ তোলা হয়। ২০০৮ সালে ভারত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে “প্রত্যাবর্তনের অধিকার” (Right to reform) এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয় যে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়েছিল আবখাজিয়াতে রাশিয়া আক্রমণের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে। ২০১৩ এবং ২০১৬ সালেও ভারত রাশিয়া কর্তৃক সমর্থনপুষ্ট আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিল। প্রত্যাশিতভাবেই ২০১৪ সালে ভারত রাশিয়া কর্তিক ক্রিমিয়া আক্রমণের জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের নিন্দা প্রস্তাবে এবং ২০২০ সালে ইউক্রেনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রস্তাবে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে।

ভারত-রাশিয়া: একটি বহুমুখী কূটনৈতিক সম্পর্ক

রাশিয়া এবং ভারতের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক শুধুমাত্র জাতিসংঘে ভোট এবং রাজনৈতিক পক্ষাবলম্বনের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং কয়েক দশকের পুরনো ভারত-রাশিয়ার এই সম্পর্ক টিকে রয়েছে দীর্ঘ অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত বিভিন্ন ইস্যুতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ওপর।

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের আগ পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়নই ছিল ভারতের সবচেয়ে বেশি বাণিজ্যিক অংশীদার। ভারতের অভ্যন্তরীণ শিল্প বিশেষ করে তেল,গ্যাস ও খনিজ পদার্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে সোভিয়েত অর্থনৈতিক অবদান এবং কারিগরি সহায়তা অপরিহার্য ছিল। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করেছিল। এমনকি ভারতীয় প্রথম নাগরিক রাকেশ শর্মা যিনি মহাশূন্যে ভ্রমণ করেছিলেন তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের ইন্টারকোসমস প্রোগ্রামে অংশ গ্রহণ করেছিলেন।

ভারতের স্বাধীনতার পর থেকেই দু’দেশের মধ্যকার সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান ছিল রাশিয়া-ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। রুশ ঐতিহাসিক, দার্শনিক এবং শিল্পীগণ ভারতীয় বিপ্লবী এবং সাহিত্যিকদের ভূয়শী প্রশংসা করেছেন। স্নায়ুযুদ্ধের সময়কালে হিন্দি চলচ্চিত্র রাশিয়ান ভাষায় ডাবিং করে প্রচার করা হতো যা তখন ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। সোভিয়েত ইউনিয়নও ভারতে বিভিন্ন প্রকাশনী স্থাপন করেছিল যাতে ক্লাসিক রাশিয়ান বই পাওয়া যেত।

অবশ্যই রাশিয়া ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে সামরিক সহযোগিতা বিষয়টি হচ্ছে সবচেয়ে স্থায়ী বিষয়। বলা হয়ে থাকে স্বাধীনতার পরে বহু বছর পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন ভারতকে বিভিন্ন সামরিক সহযোগিতা দিয়ে আসছিল। এর মধ্যে আছে বিমানবাহী রণতরী ,ট্যাংক, বন্দুক, যুদ্ধ বিমান এবং ক্ষেপণাস্ত্র।  ১৯৮০ সালে ভারতীয় নৌ বাহিনী গঠনের কেন্দ্রবিন্দুতে ও সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা ছিল এমনকি তখন পারমাণবিক একটি সাবমেরিনও ভারতকে লিজে দিয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন।

এই সোভিয়েত পরম্পরা ১৯৯১ পরবর্তীতেও জারি ছিল। ধারণা করা হয় যে বর্তমানে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ৬০-৮৫% রাশিয়ান সমরাস্ত্র রয়েছে।

স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি অধ্যায়ন কেন্দ্রের একটি গবেষণা অনুযায়ী ২০১৬ থেকে ২০২০ পর্যন্ত রাশিয়া ছিল বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ। যার মধ্যে শুধু ভারত আমদানি করেছে ২৩% রাশিয়ান অস্ত্র। যদিও ২০১১-২০১৫ এর তুলনায় ৫৩% রাশিয়ান অস্ত্র আমদানি কমেছে। যাই হোক, সম্প্রতিককালে বেশ কয়েকটি অস্ত্র চুক্তি হয়েছে। যে চুক্তি গুলোতে রাশিয়ান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দুইটি পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র সাবমেরিনও রয়েছে।

সামনে কঠিন সময়

এই দীর্ঘ কূটনৈতিক, সামরিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক ইতিহাসের আলোকে এটা অনুমান করা কঠিন নয় যে ভারতীয় সরকার এবং জনগণের বৃহৎ একটি অংশ বর্তমান সংকটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নানাবিধ নিন্দা সত্বেও রাশিয়ার পক্ষে থাকবে।

ভারত রাশিয়ার সাথে একটি সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায় কারণ প্রতিবেশীদের সাথে তার সীমানা কেন্দ্রিক সংঘাত দূরীকরণে ভারতের মস্কোর সমর্থন দরকার। উপরন্তু রাশিয়া জাতিসংঘে বারবার কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতকে সমর্থন দিয়ে এসেছে তাই এখন অনেক ভারতীয় মনে করেন যে, ভারতের এখন প্রতিদান দেওয়া সময়।

যদিও সামনের দিনগুলোতে ভারতের পক্ষে রাশিয়াকে এভাবে সমর্থন দিয়ে যাওয়া সহজ হবে না। রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের একের পর এক নিষেধাজ্ঞা ধীরে ধীরে রাশিয়াকে এক ঘরে রাষ্ট্রে পরিণত করবে।

যাই হোক ভারত রাশিয়ার সাথে প্রয়োজন ভিত্তিক অংশিদারিত্বের সম্পর্ক বজায় রাখবে। যেমনটি ভারত ইরানের সাথে রেখেছে। অধিকন্তু মোদি নেতৃত্বে ভারত পুতিনের মত অনেক কর্তৃত্ববাদী নেতার সাথে  সুসম্পর্ক বজায় রেখেছে যাদের অনেকেই মানবাধিকার, গণতন্ত্র, দেশান্তর ইত্যাদি নিয়ে বাগাড়ম্বরপূর্ণ ও বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচিত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ডানপন্থী নেতাদের সাথে সম্পর্ক রাখতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন যেমন যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল ট্রাম্প, ইসরাইলের বেনয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ব্রাজিলের জাইর বলসেনারো। নেতানিয়াহুর সময়ে ভারতের সাথে ইসরাইলের অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত জোট শক্তিশালী হয়। অন্যদিকে ২০২০ ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনে ব্রাজিলের চরম ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট জাইর বলসেনারো নয়াদিল্লিতে আমন্ত্রিত হন।

কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে ভারত যে কোন পরিস্থিতিতেই রাশিয়াকে সমর্থন দিয়ে যাবে। বিগত কয়েক বছর ধরে নয়াদিল্লি পশ্চিমাদের সাথে তার সম্পর্ক মজবুত করেছে এবং এই ধারা বজায় থাকলে খুব তাড়াতাড়ি মস্কোর সাথে তার ঐতিহাসিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

বস্তুত যদি রাশিয়া ইউক্রেনে চূড়ান্ত বিজয় লাভে অসমর্থ হয় কিংবা পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার কারণে এশিয়াতে তার অর্থনৈতিক এবং সামরিক প্রভাব দুর্বল হয়ে পড়ে তাহলে ভারত সরকার পুতিনের পক্ষাবলম্বনের ক্ষেত্রে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হবে।

কিন্তু বর্তমানে অবস্থায় ভারত কর্তৃক রাশিয়ার সাথে থাকা এবং পুতিনকে সমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রে কারো আশ্চর্যান্বিত হওয়া উচিত নয়।

[আল জাজিরা থেকে অনূদিত] 

[মূল লেখক: সোমদীপ সেন, সহযোগি অধ্যাপক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অধ্যয়ন, রসকিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ডেনমার্ক] 

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Read

Featured