Homeআন্তর্জাতিকসিরিয়া: বিশ্বের বুকে জ্বলন্ত এক ভূখণ্ডের নাম

সিরিয়া: বিশ্বের বুকে জ্বলন্ত এক ভূখণ্ডের নাম

সংকটের শুরু যেভাবে

সময়টা ছিল ২০১১ সালের শুরুর দিকে। সিরিয়ার অন্য সব শহরের মত‌ই দারা শহরে ভোর হয়, সন্ধ্যা নামে। বাশার আল আসাদের কর্তৃত্ববাদী শাসনেও জনজীবন চলে স্বাভাবিক ভাবেই। কিন্তু ছোট্ট একটি ঘটনার জের ধরে সিরিয়ায় এক দশকের বেশি সময় ধরে গৃহযুদ্ধ চলবে তা বোধহয় কেউ ঘুনাক্ষরেও ভাবতে পারেনি। 

ঘটনাটি ছিল মুয়াবিয়া স্যাসনেহ নামের ১৪ বছরের এক কিশোরের। যে পার্শ্ববর্তী তিউনিসিয়া ও মিসরের আরব বসন্তে অনুপ্রাণিত হয়ে স্কুলের দেয়ালে একটি গ্রাফিতি আঁকে। যেখানে সে বাশার আল আসাদের প্রথম জীবনের পেশা উল্লেখ করে লিখে (جال الدور يا دكتور ) “ডাক্তার! এবার আপনার পালা”

চিত্র-১: এই সামান্য আরবি গ্রাফিটি “ডাক্তার এবার আপনার পালা!” যেভাবে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ সূত্রপাত ঘটিয়েছিলো ২০১১ সালে আরব বসন্তের রেশ ধরে।

এই সামান্য দেয়াল লিখনের কারণে আসাদ সরকারের লোকজন মুয়াবিয়া সহ পনেরজন কিশোরকে ধরে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালায়। কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে ৪০ দিনেরও বেশি সময় ধরে আটকে রাখে। নিষ্পাপ কিশোরদের উপর অত্যাচারের প্রতিবাদে মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।অনেক জল ঘোলার পর বিভিন্ন শর্তসাপেক্ষে ১৫ জন কিশোরকে মুক্তি দেয়া হয়। তাঁদের শরীরে ছিল  আঘাতের ক্ষত, জমাট বাঁধা রক্তের চিহ্ন ছিল সারা শরীর জুড়ে। এটা দেখে সাধারণ জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। রাজপথে নেমে আসে হাজারো জনতার ঢল। ক্রমে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সিরিয়ার শহর থেকে গ্রামে, জনপদ থেকে লোকান্তরে। 

সিরিয়ায় ৪৮ বছর ধরে চলা জরুরি অবস্থা, দুর্ভিক্ষ ও খাদ্য সংকট, মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন, শরণার্থী সমস্যা ইত্যাদির কারণে মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গিয়েছিল। জান্তা সরকারের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারছিল না। জনতার শুধু প্রয়োজন ছিল একটি উপলক্ষের। সেই উপলক্ষটি তৈরি হয় পনের কিশোরের আটকের ঘটনার মাধ্যমে।

সামান্য গ্রাফিতির কারণে ১৫ কিশোরের অকথ্য নির্যাতন জনতার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দেয়। পরবর্তীতে যখন নিরস্ত্র জনতার মিছিলেও জান্তা সরকার ট্রিগার দাবাতে কুন্ঠিত হয়নি, শুধু প্রথম আট মাসেই ৩০০০ নিরীহ সিরীয় সেনা বাহিনীর গুলিতে নিহত হন, তখন সাধারণ মানুষজনের হাতে অস্ত্র তুলে নেওয়া ছাড়া বিকল্প ছিল না।

ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে মার্চের ১৫ তারিখ পর্যন্ত সিরিয়ার সকল বড় বড় শহরে গণ অভ্যুত্থান ছড়িয়ে পড়ে। আলেপ্পো থেকে রাকা, হিমস থেকে দামেস্ক, ইদলিব থেকে হামা সর্বত্রই উচ্চারিত হতে থাকে পরিবর্তনের দাবি। স্বৈরাচারের পতনের বিরুদ্ধে সকলেই চলে আসে এক কাতারে। ২০১১ সালের ২৯ জুলাই গঠিত হ‌ওয়া ফ্রি সিরিয়ান আর্মির পতাকাতলে লড়াই চলতে থাকে। কিন্তু মতাদর্শিক ও রাজনৈতিক কারণে বিদ্রোহীরা বিভিন্ন দলে উপদলে ভাগ হয়ে যায়। আত্মপ্রকাশ করে আন নুসরা ফ্রন্ট, তাহরির আল সামস, সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্স ও আইএস‌আইএল এর মত দলগুলো। যাদের কারো লক্ষ্য ছিল আসাদ সরকারের পতন, কারো আবার সিরিয়ায় কথিত খেলাফত প্রতিষ্ঠা, আবার কারো ছিল সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে খেলাফতের স্বপ্ন। যার ফলে আসাদের বিপক্ষের শক্তি গুলো ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়ে।

পরাশক্তি রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থের দ্বন্দ্ব

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে নানান গোষ্ঠী ভিন্ন ভিন্ন স্বার্থে লড়াই করে যাচ্ছে এবং তাদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন বিদেশি শক্তি।  ফ্রি সিরিয়ান আর্মি এবং তাদের প্রতিষ্ঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ফ্রান্স, তুরস্ক, কাতার ও সৌদি আরব। অন্যদিকে সিরিয়ান আরব রিপাবলিককে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া, চীন, ইরান, ইসরাইল, ইরাক ও হিজবুল্লাহ।

গৃহযুদ্ধের শুরু থেকেই নিজেদের স্বার্থে সিরিয়ায় জড়িয়ে পড়ে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন শক্তি। বাশার আল আসাদ শিয়া পন্থী হ‌ওয়ায় ইরানের সমর্থন ছিল শুরু থেকেই। রাশিয়া থেকে আসাদের প্রচুর অস্ত্র কেনা এবং আসাদের সাথে মিত্রতা থাকায় রাশিয়াও ছিল আসাদের পক্ষে। চীন- যুক্তরাষ্ট্রের নতুন স্নায়ুযুদ্ধের কারণে চীন‌ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধীতা করে আসাদের পক্ষ নিয়েছে। চীন সিরিয়ায় সরাসরি অংশ না নিলেও তার সমর্থন আসাদ সরকারের প্রতি। সিরিয়ায় আরো আছে তুরস্ক, সৌদি আরব ও উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো।

চিত্র-২: সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে একের একের পর এক ষড়যন্ত্রের জাল বিছিয়ে যাচ্ছে পশ্চিমা এবং মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো; আইএস জঙ্গি সৃষ্টি যার জ্বলন্ত উদাহরণ।

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের ফলে তুরস্কে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি শরণার্থী বসবাস করছে। সঙ্গত কারণেই তুরস্ককে শরণার্থী ও নিরাপত্তা সমস্যা মোকাবেলা করতে হচ্ছে। সেই সাথে আছে কুর্দিদের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন। তাই‌ তুরস্ক ভারসাম্য রক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া উভয় জোটের সাথে ভারসাম্য রক্ষা করে চলে।

ঐতিহাসিক ভাবেই শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্বের প্রধান দুই কান্ডারি হচ্ছে সৌদি আরব ও ইরান। সুন্নি সৌদি আরব ও শিয়া ইরানের মতাদর্শিক, রাজনৈতিক ও মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তার সেই সাথে মুসলমানদের পবিত্র মক্কা মদিনার নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি নিয়ে রয়েছে পুরনো দ্বন্দ্ব। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইতিমধ্যেই এই দুই দেশ ছায়া যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। যা মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি ইরান স্নায়ুযুদ্ধ হিসেবে খ্যাত। সৌদি-ইরানের দ্বন্দ্বের রেশ সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধেও বিদ্যমান। একদিকে শিয়া পন্থী আসাদকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে ইরান অন্য দিকে আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিদ্রোহীদের সব ধরণের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে ইরান অন্য দিকে আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিদ্রোহীদের সব ধরনের সাহায্য দিয়ে আসছে সৌদি আরব ও উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো।

দন্ত নখরহীন জাতিসংঘ

দুই দুইটি বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৫ সালের ২৫ অক্টোবর বিশ্বে সংঘাত কমিয়ে আনা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতিসংঘ গঠিত হয়। পূর্ববর্তী জাতিপুঞ্জের (League of Nations) ব্যর্থতা, গঠন প্রক্রিয়ায় দুর্বলতা, সম্মিলিত নিরাপত্তা বিধানে অপারগতা ইত্যাদি কারণেই জাতিসংঘের জন্ম। সেই ১৯৪৫ থেকে বিশ্বের নানা সংঘাত নিরসনে জাতিসংঘের সোচ্চার ভূমিকা যেমন আছে তেমনি সিরিয়া, ইয়ামেন সহ নানা‌ সংকট ও সংঘাতে ব্যর্থতার রয়েছে ভুরি ভুরি নজির।

মূলত বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা বিধানের গুরু দায়িত্ব জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের। বৈশ্বিক নিরাপত্তা ঝুঁকি, গৃহযুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অস্ত্র বিস্তার, সন্ত্রাসবাদ ইত্যাদি মোকাবেলায় নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ৫ টি দেশ এবং অস্থায়ী ১০ টি নিয়মিত বৈঠকে বসে। স্থায়ী পাঁচটি দেশ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স রাশিয়া ও চীন। প্রত্যেকের রয়েছে ভেটো পাওয়ার অর্থাৎ কেউ যদি কোন প্রস্তাবে ভেটো দেয় তাহলে সেই প্রস্তাব আর কার্যকর হবে না। তাই যেকোন প্রস্তাব পাশ হতে হলে স্থায়ী পাঁচ সদস্যের কোন একটি বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছাতে হয়।

সিরিয়া ইস্যুতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ২০১১ থেকে ২০২১ পর্যন্ত ২১ বার বৈঠকে বসেছে কিন্তু ফলাফল শূন্য। প্রতি বারই রাশিয়া ও চীনের ভেটোর কারণে কোন প্রস্তাব‌ পাশ হতে পারেনি। যার ফলে সম্মিলিত কোন পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হয়নি। জাতিসংঘের এই অকার্যকারিতাই সিরিয়ার পরিস্থিতিকে করেছে আরো জটিল, আরো অসহনীয়।

মৃত্যুপুরীর খতিয়ান

২০১১ সালে দারা শহর থেকে যে স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়েছিল সিরিয়ার প্রতিটি জনপদে, জনতার যে ঢল কাঁপিয়ে দিয়েছিল বাশার আল আসাদের মসনদ, সেই বাঁধভাঙা গণজোয়ারকে বলপূর্বক দমিয়ে রেখে শাসন ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে বাশার আল আসাদ কোন ক্রুটি রাখেননি। নির্বিচারে গুলি বর্ষণ, বিমান হামলা, রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার হয়েছে হরহামেশাই। মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন সত্তেও মৃত্যুর মিছিল থামেনি।

চিত্র-৩: বাশারপক্ষ, বাশারবিরোধী এবং আইএসের ত্রিপাক্ষিক যুদ্ধের মূল ভুক্তভূগী কিন্তু সিরিয়ার সাধারণ জনগণ। এর দরুন অনেকেই এখন নিজের দেশ ছেড়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্র কিংবা ইউরোপে শরণার্থী হতে হয়েছে।

জাতিসংঘের এক জরিপ অনুযায়ী ২০১১ সালের মার্চ থেকে ২০২১ এর মার্চ পর্যন্ত ৩,৫০,২০৯ এর অধিক বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর সেনা সদস্য মিলিয়ে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৬,০৬,০০০ এর অধিক। ৩.৮ মিলিয়নের বেশি মানুষ  পার্শ্ববর্তী তুরস্ক, লেবানন, জর্ডান ও মিসরের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অসংখ্য মানুষ। গত এক দশকে সিরিয়ায় ৮৬ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে, অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে ৪০ শতাংশের বেশি যার আর্থিক পরিমান ৬৫ বিলিয়ন ডলার।

রক্তগঙ্গার দায় কার

এক দশকেও না থামা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের জন্য দায়ী কে? এক সাগর রক্তের জন্য কি শুধু আসাদ সরকার দায়ী নাকি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরাশক্তি গুলোর‌ দায়‌ও আছে। বিশ্ব অভিভাবক হিসেবে জাতিসংঘ‌ই কতটুকু দায়িত্ব পালন করতে পেরেছে এই প্রশ্ন গুলো বিশ্লেষণের দাবি রাখে।

আসাদ সরকারের ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ডের কথা ইতিমধ্যে আমরা জেনেছি। সিরিয়ার সাধারণ জনগণের উপর চালানো পৈশাচিক বর্বরতার কথাও অজানা নয়। কিন্তু এই স্বৈরাচার শাসককে ক্ষমতায় রাখতে ইরান, রাশিয়া ও চীনের ঘৃণ্য প্রচেষ্টা বিশ্বকে হতবাক করেছে। বিশেষ করে আইএস ও বিদ্রোহীদের উপর বিমান হামলার নামে বেসামরিক নাগরিকদের উপর লাগাতার বোমাবর্ষণ, সিরিয়ায় নতুন নতুন সমরাস্ত্রের পরীক্ষামূলক হামলা সুস্পষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘন।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স স্বৈরাচার আসাদের বিপক্ষ নিয়েছে সত্য কিন্তু তা যতটা না সিরিয়ার জনগণের স্বার্থে তার থেকে ঢের বেশি নিজের অস্ত্র বিক্রি চাঙ্গা রাখতে। কারণ বিরোধী পক্ষ জিইয়ে রাখা মানে যুদ্ধ সচল থাকা, আর যত বেশি যুদ্ধ তত বেশি অস্ত্র বিক্রি, আর যত বেশি অস্ত্র বিক্রি তত বেশি মুনাফা। ওয়াশিংটন ভিত্তিক সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসি (সিআইপি) সংস্থার রিপোর্ট মতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সহিংসতায় যুক্তরাষ্ট্রের ৫০%, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ইতালির ২৪% এবং রাশিয়ার ১৭% করে অস্ত্র বিক্রি করছে।

সন্ত্রাস দমন ও শিয়া আসাদের পরিবর্তে সুন্নি সরকার বসাতে সৌদি আরব ও তার মিত্ররা যে অর্থনৈতিক ও সামরিক সাহায্য দিয়েছে, সংকট জিইয়ে থাকতে এটাও ছিল অন্যতম কারণ।

সিকিউরিটি কাউন্সিল ভুক্ত কোন দেশের ভেটোর সামনে জাতিসংঘ কতটা অকার্যকর ও ব্যর্থ তার সর্বশেষ উদাহরণটি আমরা সিরিয়ায় দেখতে পেয়েছি। সিরিয়া সংকট সমাধানে জাতিসংঘ যে পুরোপুরি ব্যর্থ তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।

তাই সিরিয়ায় রক্তগঙ্গার দায় যেমন খুনি আসাদ এড়াতে পারে না ঠিক তেমনি দায় এড়াতে পারে না জাতিসংঘ ও সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়া আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরাশক্তি গুলোও।

শেষ কথা

২০১১ সালে প্রথমে বিক্ষোভ, তারপর গণ অভ্যুত্থান, সবশেষে গৃহযুদ্ধে হাজার বছরের ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ সিরিয়া পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। আহত-নিহত মানুষের হাহাকারে সিরিয়ার আকাশ বাতাস কম্পিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। যুদ্ধের বিভীষিকায় পঙ্গুত্ব বরণ করে, শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন লাখো মানুষ। সাগরের কূল ঘেঁষে নিথর হয়ে পড়ে থাকা শিশু আয়লানের ছবি এখনো বিশ্ব বিবেককে নাড়া দেয়। তা দেখে পৃথিবীর দিকে দিকে শান্তিকামী মানুষ প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। কিন্তু সেই প্রতিবাদের আহ্বান বিশ্ব মোড়লদের কর্ণ কুহরে পৌঁছায় না। রক্তের দরিয়া দেখেও নিছক নিজ স্বার্থে সংকট সমাধানে তারা এগিয়ে আসেন না। পরিণামে জ্বলতে থাকে দামেস্ক, পুড়তে থাকে আলেপ্পো, হিমস ও রাকা। আয়লানের মত হাজারো মানুষের সলীল সমাধি হয় ভূমধ্যসাগরে। খালি অসংখ্য মায়ের বুক।

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের এক দশক পরে এসে আসাদ সরকারের টিকে থাকার সম্ভাবনাই বেশি। বন্দুকের নলের সামনে সাধারণ মানুষ অসহায়। প্রতিবেশী দেশ এবং পরাশক্তি গুলোর সহায়তায় হাজার বছরের ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ সিরিয়ায় আবার শান্তির সুবাতাস বইবে, মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত হবে এটাই কামনা, এটাই প্রত্যাশা।

তথ্যসূত্র:

১. The Battle for Syria: International Rivalry in the New Middle East by Christopher Phillips

২. Syrian Civil War: The Essential Reference Guide by Robert M. Kerr

৩. Syrian Requiem: The Civil War and Its Aftermath by Itamar Rabinovich & Carmit Valensi

৪. https://www.britannica.com/event/Syrian-Civil-War

৫. https://www.bbc.com/news/world-middle-east-35806229

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Read

Featured